kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম বন্দর

জেটিতে পণ্য ওঠানামায় যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে দরপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জেটিতে পণ্য ওঠানামায় যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে দরপত্র

চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পণ্য ওঠানামার অপারেটর নিয়োগের দরপত্র ডেকেছে কর্তৃপক্ষ। দরপত্রে  যোগ্য নির্বাচিতরা আগামী তিন বছরের জন্য জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের খোলা পণ্য ওঠানামার কাজ করবে।

ফলে যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও পণ্য ওঠানামার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।

বর্তমান দরপত্রে শর্ত দেওয়া হয়েছে, বিগত সাত বছরের মধ্যে যেকোনো দুই বছর একটি প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে তিন লাখ টন পণ্য ওঠানামার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই শর্তকে কঠিন আখ্যা দিয়েছে একটি পক্ষ। তাদের মতে, যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তাতে নতুন করে কারো দরপত্রে বার্থ অপারেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ঘুরেফিরে বর্তমান কর্মরতরাই নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু এই পক্ষের অর্থাৎ সাবেক অপারেটর বা স্টিভিডোরদের কেউই উদ্ধৃত হয়ে মন্তব্য করতে চায়নি।

তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০১০ সাল এবং ২০১৩ সালের দুটি দরপত্রের মতোই শর্ত বহাল রেখে এই দরপত্র ডাকা হয়েছে, যাতে যোগ্যদের মধ্যেই প্রতিযোগিতায় হয়। আর প্রতিটি দরপত্র ডাকার আগে যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণে একটি বিশেষায়িত কমিটি কাজ করে। এরপর এই কাজে আগ্রহীদের নিয়ে কমিটি প্রি-বিড মিটিং করে, এরপরেই দরপত্র ডাকা হয়। ফলে সব শর্ত শিথিল করে যে কাউকে বন্দরের মতো বিশেষায়িত কাজে নিয়োগ করা যায় না।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরের পণ্য ওঠানামার মতো বিশেষায়িত ও সংবেদনশীল কাজের যোগ্য হতে অবশ্যই কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। শর্ত উন্মুক্ত করে দিয়ে যে কাউকে এই কাজে নিয়োগের সুযোগ নেই। সব শর্ত পূরণকারীরা কেবল পণ্য ওঠানামার কাজ পেতে পারে। ’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামার জন্য প্রধান ১২টি জেটির মধ্যে ছয়টি জাহাজে আসা খোলা পণ্য ওঠানামার কাজে এবং বাকি ছয়টি কনটেইনার পণ্য ওঠানামার কাজে নিয়োজিত থাকে। এসব জেটি পরিচালনার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১০ সাল থেকে দরপত্রের মাধ্যমে ১২ বার্থ বা জেটি অপারেটর প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে। তিন বছরের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দর দিয়ে তারা নির্বাচিত হয়ে আসছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ছয়টি জেটির খোলা পণ্য ওঠানামার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে তিনটি জেটির দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ বুধবার। বাকি তিনটি জেটির দরপত্র জমা দেওয়া যাবে আগামী ১ নভেম্বর।

এ বিষয়ে বার্থ অপারেটর ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরের ধারাবাহিক অগ্রগতির পেছনে বার্থ অপারেটরদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা একটি বড় বিষয়। ফলে যোগ্যদের বাছাইয়ে ভুল করলে পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে। ফলে বিদ্যমান শর্তের চেয়ে আরো কঠোর ভূমিকার দরকার ছিল, কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ আগের শর্ত বহাল রেখেই দরপত্র আহ্বান করেছে। ’

দরপত্রের শর্ত মতে, একটি জেটিতে একাধিক প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে। ফলে এখানে প্রতিযোগিতামূলক দরের মাধ্যমে নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন বার্থ অপারেটর পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থার কর্ণধার পারভেজ আহমদ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরের মতো কাজে শর্ত উন্মুক্ত করে দেওয়ার সুযোগ নেই। শর্তের বিরুদ্ধে অতীতে উচ্চ আদালতে অনেক মামলা হলেও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। আদালত শেষ পর্যন্ত রায়ে বলেছেন, বন্দরের পরিচালনায় নিজস্ব কিছু শর্ত থাকা যৌক্তিক। ’

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানায়, প্রতিবছর জেটি বা বহির্নোঙরে দরপত্র ডাকার পরই একটি পক্ষ দরপত্রের যোগ্যতার বিভিন্ন শর্ত চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে মামলা করে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঝুলিয়ে দিতে চায়। ২০১০ ও ২০১৩ সালে একই ঘটনা ঘটেছে। পরে তারাই আবার বিভিন্নভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সমঝোতা করে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। এবারও একটি পক্ষ এ ধরনের কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


মন্তব্য