kalerkantho


কর প্রদানে উৎসাহিত করে প্রচারণায় এনবিআর

নজরদারিতে থাকবেন রাজস্ব কর্মকর্তারা

ফারজানা লাবনী   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নজরদারিতে থাকবেন রাজস্ব কর্মকর্তারা

চলতি করবর্ষে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে এলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কোনো কর্মকর্তা সহযোগিতা না করে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে হয়রানি করলে ওই এনবিআর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে নজরদারিতে করনীতি শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের কাছ থেকে রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর আইনি ক্ষমতা বিশেষ আদেশবলে কেড়ে নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

চলতি করবর্ষে আয়কর রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের উৎসাহিত করতে এরই মধ্যে এনবিআর থেকে বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, পেশাজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা, করপোরেট হাউস, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে এনবিআর থেকে চিঠি পাঠিয়ে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এসব চিঠিতে জানানো হয়েছে কারা, কত আয় হলে, কিভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবে। রিটার্ন দাখিল না করলে শাস্তির বিষয়ও জানানো হয়েছে।

কারা রিটার্ন দাখিল করবে সে সম্পর্কে চিঠিতে বলা হয়েছে, সাধারণভাবে কোনো ব্যক্তি করদাতার আয় যদি বছরে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি হয় তবে তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতার আয় যদি বছরে তিন লাখ টাকার বেশি হয়, প্রতিবন্ধী করদাতার আয় তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি এবং গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় বছরে চার লাখ ২৫ হাজার টাকার বেশি হয় তবে ওই করদাতাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। করদাতা যদি কোনো কম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার চাকরিজীবী হন, কোনো ফার্মের অংশীদার হন তবে ওই ব্যক্তিকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া সরকার অথবা সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ, করপোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের বা প্রচলিত কোনো আইন, আদেশ বা দলিলের মাধ্যমে গঠিত কোনো কর্তৃপক্ষ, করপোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের কর্মচারী হয়ে আয় বছরের যেকোনো সময়ে ১৬ হাজার টাকা বা তার বেশি পরিমাণ মূল বেতন আয় করে থাকেন তাঁরা রিটার্ন দাখিল করবেন।

এনবিআর থেকে পাঠানো চিঠিতে আরো বলা হয়, যদি আয় বছরের কোনো এক সময়ে মোটরগাড়ির মালিকানা থাকা (মোটরগাড়ি বলতে জিপ বা মাইক্রোবাসকেও বোঝাবে), মূল্য সংযোজন আইন (মূসক), ১৯৯১-এর অধীনে নিবন্ধিত কোনো ক্লাবের সদস্যপদ থাকা, কোনো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ হতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে কোনো ব্যবসা বা পেশা পরিচালনায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি অথবা সার্ভেয়ার হিসেবে অথবা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার নিবন্ধিত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আয়কর রিটার্ন করতে হবে। এনবিআর থেকে জানানো হয়, কোনো বণিক বা শিল্পবিষয়ক চেম্বার বা ব্যবসায়িক সংঘ বা সংস্থার সদস্যপদ থাকলে, আয়কর পেশাজীবী হিসেবে এনবিআরে নিবন্ধিত থাকলে তাকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

কোনো পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের কোনো পদে বা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হলে, কোনো সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কোনো স্থানীয় সরকারের কোনো টেন্ডারে অংশ গ্রহণ করলে এবং কোনো কম্পানির বা কোনো গ্রুপ অব কম্পানির পরিচালক পর্ষদে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।

চলতি করবর্ষে চার ধরনের আয়কর রিটার্ন ফরম চালু করেছে এনবিআর। আইটি ১১ জিএ ২০১৬ এবং আইটি ফরম ১১ জিএ ফরম সব ব্যক্তি-করদাতার জন্য, আইটি ১১ ইউএমএ কেবল বেতনভোগী করদাতার জন্য এবং আইট ১১ সিএইচএ ব্যবসা বা পেশা খাতে আয় আছে এবং এমন আয়ের পরিমাণ লাখ টাকার বেশি নয়, এমন ব্যক্তি-করদাতার জন্য।

এনবিআর থেকে পাঠানো চিঠিতে দুই ধরনের আয়কর রিটার্ন দাখিলের কথা উল্লেখ আছে, একটি সর্বজনীন স্বনির্ধারণ পদ্ধতি, অন্যটি সাধারণ পদ্ধতি। সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে করদাতা বা তার প্রতিনিধি নিজের আয় নিজে নিরূপণ করে আয়কর পরিশোধ করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে। সাধারণ পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার কর নির্ধারণ করে দেন। এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, চলতি করবর্ষে করদাতারা যাতে সুন্দরভাবে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারে এর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। কারো কারণে যদি কোনো করদাতা হয়রানির শিকার হয় তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে বা আয়কর রিটার্নে মিথ্যা হিসাব দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য