kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ধর্মঘটের ধকল সামলে উঠতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ধর্মঘটের ধকল সামলে উঠতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর

১০০ ঘণ্টা পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের ধকল এখনো সামলে উঠতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর। জাহাজ জেটি ছাড়ার সময় বেঁধে দিয়ে, রাতে জাহাজ ভিড়িয়ে, খালি কনটেইনার দ্রুত অপসারণসহ সব পদ্ধতিই প্রয়োগ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এতে পরিস্থিতি সহনীয় হলেও স্বাভাবিক হয়নি।

এখনো একটি কনটেইনার জাহাজ বহির্নোঙর থেকে বন্দর জেটিতে ভিড়তে দুই থেকে ছয় দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আর খোলা পণ্যবাহী জাহাজকেও একই সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। বাড়তি সময় বসে থাকার জন্য বিপুল আর্থিক মাসুল গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বহির্নোঙরে দুই থেকে তিন দিন অপেক্ষাকে আমরা স্বাভাবিক হিসেবে ধরে থাকি। বন্দরের বিভিন্ন কঠোর উদ্যোগের ফলে এখন পরিস্থিতি অনেকটা সহনীয় হলেও স্বাভাবিক হয়নি। ’

আহসানুল হক চৌধুরী আরো বলেন, ‘বন্দরের খালি কনটেইনারজট এতটা প্রকট ছিল তা কমাতে ফোর্স শিপমেন্ট বা জোর করে জাহাজে খালি কনটেইনার তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি ভালোভাবে করা না গেলে এই সুফল আসত না। ’  

আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, অনির্ধারিত গিয়ারবিহীন জাহাজ পূর্বানুমতি ছাড়া বন্দরে আসতে শর্তারোপ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গিয়ারবিহীন জাহাজের চাপ একেবারে কমে গেছে। কিন্তু জাহাজ আসা নিয়ন্ত্রণ করে চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল যৌক্তিক নয়।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে জরিমানা এড়িয়ে কম টাকায় বেশি পণ্য পরিবহনের দাবিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলর মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ধর্মঘট ডাকে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বন্দরের ভেতর কনটেইনার জটের সৃষ্টি হয়, রপ্তানি কনটেইনার না নিয়েই জাহাজ বন্দর ছাড়তে বাধ্য হয়, কনটেইনার বন্দর থেকে বের হতে না পারায় জাহাজ থেকে পণ্য নামানোতে অচলাবস্থা দেখা দেয়। এর ফলে বহির্নোঙরে কনটেইনার ও সাধারণ দুই ধরনের পণ্যবাহী জাহাজের বিশাল জটের সৃষ্টি হয়। একটি জাহাজকে জেটিতে ঢুকতে আট দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়। ১০০ ঘণ্টা পর ধর্মঘট স্থগিত হলেও ১ অক্টোবর থেকে গত ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে বন্দর পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

জানতে চাইলে প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লাইনের (পিআইএল) মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের আমদানি-রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আগের চেয়ে অনেক বাড়ায় বন্দরের জাহাজ আসা বেড়েছে কিন্তু সেই তুলনায় জেটি বাড়েনি। ফলে জাহাজজট লেগেই থাকবে। জেটি ইয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে যন্ত্রপাতি সংযোজন না করলে এই সংকেটর উত্তরণ ঘটবে না। ’

বন্দর থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে গত রবিবার তিনটি কনটেইনার জাহাজ ভিড়েছে। সেগুলো বহির্নোঙরে দুই থেকে ছয় দিন পর্যন্ত অপেক্ষার পর জেটিতে ঢুকেছে। আর ১৭ অক্টোবর কোনো কনটেইনার জাহাজ জেটি ছাড়েনি, এর বিপরীতে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দুদিনে কনটেইনার জাহাজ আসবে সাতটি। ফলে জাহাজ চাপ সহসাই কমবে না। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধর্মঘট বন্দরের কোনো বিষয় ছিল না, তার পরও এর ধকল সামাল দিতে হয়েছে আমাদের। আমরা বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রতিনিয়ত তদারকির মাধ্যমে দ্রুতই পরিস্থিতি সামলে উঠতে পেরেছি। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। ’


মন্তব্য