kalerkantho


ট্যানারি স্থানান্তর করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ট্যানারি স্থানান্তর করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই

গতকাল সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ছবি : কালের কণ্ঠ

চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরের জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। আর আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। ওই ট্যানারিগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি। গতকাল রবিবার সকালে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় বিসিক শিল্পনগরীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত সাভার চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ, ট্যানারি মালিক সমিতি, বিসিকের কর্মকর্তাসহ সবার সঙ্গে আলাপ করে তিনি এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলতি মাসেই তিনি ট্যানারিগুলোর কাজকর্ম দেখে বুঝে ফেলবেন যে মালিকদের অগ্রগতি কতটুকু। এই সময়ের মধ্যে হেমায়েতপুরে সব ট্যানারি স্থান্তান্তরে মালিকরাও একমত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের বিষয়ে এর আগেও কয়েকবার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সরবরাহকৃত নিম্নমানের সরঞ্জাম ফিরিয়ে দেওয়াসহ অভ্যন্তরীণ কারণে নির্মাণকাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এখন সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বিদ্যমান সব সমস্যার সমাধান করেছে। এর পরও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবার যারা হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তর করবে না, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে তাদের নামে বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল করা হবে।

আমির হোসেন আমু বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারি বুড়িগঙ্গা নদীসহ রাজধানীর পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাভারে পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে উৎপাদন শুরু হলে চামড়াশিল্প খাতে মূল্য সংযোজন ও রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব শিল্পের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করে বিশ্বের কাছে পরিবেশবান্ধব চামড়াশিল্পের নজির স্থাপনের জন্য ট্যানারি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। পরে মন্ত্রী চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, পানি শোধনাগার ও ট্যানারি কারখানাগুলোর নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে শিল্পসচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিসিকের চেয়ারম্যান হাসান মোহাম্মদ ইফতেখারসহ বিভিন্ন কারখানার মালিক ও মালিক সমিতির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিসিকের একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে জানিয়েছে, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দ নিয়ে এখন পর্যন্ত কমলা ট্যানারি ও জুলিয়েট ট্যানারি নামে দুটি ট্যানারি অবকাঠামোগত কোনো কাজ শুরু করেনি। আর স্বদেশ ট্যানারি, ইব্রাহীম ট্যানারি, টিপাড়া ট্যানারি, চৌধুরি ট্যানারি, হেলেনা ট্যানারি, মাদার ট্যানারি, সোনালী ট্যানারি, ভূঁইয়া ট্যানারি, হোসেন ট্যানারিসহ অন্তত ১০টি ট্যানারি প্রাথমিকভাবে কিছু নির্মাণকাজ শুরু করে পরে সব কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

সালমা ট্যানারির মালিক ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসেসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, তিনি চামড়া প্রক্রিয়ার কাজ শুরু না করলেও ভবনের দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ শেষ করেছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি। আগামী এক সপ্তাহ পরে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে চামড়া প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করতে পারবেন।

সাভার চামড়া শিল্পনগরীর প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্মাণাধীন কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের সিভিল কাজের প্রায় ৯৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এই চামড়া শিল্পনগরীর ইতিমধ্যে ৪৭টি ট্যানারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ট্যানিং ড্রাম স্থাপন করেছে। ১০ ট্যানারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করেছে। ১২৮টি ট্যানারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বরাবর আবেদন করেছে। কারখানা চালু করার জন্য ১৩টি ট্যানারি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে।

আব্দুল কাইয়ুম আরো বলেন, ধলেশ্বরী নদীর পাশ দিয়ে রফিক সেতু পর্যন্ত একটি সড়ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে মালিকরা তাদের কার্যক্রম শুরু করলে আস্তে আস্তে সবই করা হবে।


মন্তব্য