kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অর্থনৈতিক উন্নয়নে পথপ্রদর্শক চীন

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অর্থনৈতিক উন্নয়নে পথপ্রদর্শক চীন

চীনের অগ্রগতির জানান দিচ্ছে দেশটির সুউচ্চ ভবন সাংহাই টাওয়ার

শিল্পায়ন ও দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে গত এক যুগে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে দেশটি সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে সেটি চীন। সফল নেতৃত্ব আর অর্থনৈতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চীনের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১০ শতাংশ।

আর এতে দেশটির মাথাপিছু জিডিপি বেড়েছে ৪৯ গুণ। ১৯৭৮ সালে যেখানে দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ছিল এক হাজার ১০০ ডলার, সেখানে এখন তা বেড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে দেশটি ৮০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেয়। বর্তমানে দেশটির দারিদ্র্যসীমার নিচে জনসংখ্যা মাত্র ৫.১ শতাংশ।

দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা হিসাব করলে দেখা যায়, ২০০২ সালে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ছিল ১২.০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার)। এ সময় দেশটি ছিল বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ। ২০১১ সালে এসে জিডিপি দাঁড়ায় ৪৭.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (৭.৬ ট্রিলিয়ন ডলার)। এই এক দশকের কম সময়ে জাপানকে অতিক্রম করে চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হয়। বর্তমানে সার্বিক অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে শীর্ষে আসার পথে রয়েছে দেশটি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি বা পিপিপির বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ চীন। পিপিপি হিসাবে চীনের জিডিপি ২১.২৬৯ ট্রিলিয়ন ডলার।

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ চীন, আমদানির দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তর। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) গ্রহণের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ, আর দ্বিতীয় বৃহত্তর বিনিয়োগকারী দেশ। চীনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিশ্বের সবচেয়ে বড়। ২০০২ সালে দেশটিতে বৈদেশিক বাণিজ্যের রিজার্ভ ছিল ২৮৬.৪ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০০২ সালে চীনের মোট রপ্তানি ছিল ৩২৫.৬ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১৫ সালে তা বেড়ে হয় ২.২৮ ট্রিলিয়ন ডলার। ইতিমধ্যে বিশ্বের কারখানা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া চীনের পণ্য বিশ্বজুড়ে। আর এসব পণ্য সব ধরনের ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকায় তা জনপ্রিয় সর্বত্র। জানা যায়, প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী জাহাজ চারটি মহাদেশে চীনা পণ্য পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। চীনের শিল্পোন্নতি ও অথনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান গত এক দশকে দেশটিতে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এককথায় ১৩৫ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বিশাল বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে। একসময় পণ্য রপ্তানির শীর্ষে ছিল জার্মানি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় যথাক্রমে জাপান ও আমেরিকা। কিন্তু ২০১৪ সালে জার্মানিকে পেছনে ফেলে চীন রপ্তানির শীর্ষপদ দখল করে।

শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি চীন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে অনেক দূর এগিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার দেশেগুলোর সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতি ও শিল্পায়নের সুবাদে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশে ‘আর্থিক রক্ষাকবজ’-এর ভূমিকা পালন করছে চীন। উন্নয়নের মধ্য দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এখন চীনের হাতেই। যা অনেক দেশকেই উন্নয়নের পথ দেখায়। এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য