kalerkantho


বড় বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে

শেখ শাফায়াত হোসেন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বড় বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে

বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্যের বেশির ভাগই আসে চীন থেকে। দেশটি থেকে আমদানি করা পণ্যের তালিকায় রয়েছে সব ধরনের সুতা, তুলা ও সুতি কাপড়, পারমাণবিক চুল্লি, বয়লার, শিল্প ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও এর উপরকরণ, লোহা ও ইস্পাত, ফিলামেন্ট, কাপড় তৈরির উপকরণ, প্লাস্টিক ও এর উপকরণ, সার, অর্গানিক ও ইন-অর্গানিক কেমিক্যাল, রেল ও ট্রাম ছাড়া অন্যান্য পরিবহন ও এর যন্ত্রাংশ, কাগজ ও কাগজের বোর্ড ও মণ্ড, অপটিক্যাল, ফটোগ্রাফি ও মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, রাবার, কফি, চা ও মসলাসহ ২৬ থেকে ৩০ ধরনের পণ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা আমদানি ব্যয়সংক্রান্ত বার্ষিক প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দুই লাখ ৯০ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা বা তিন হাজার ৭৪২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা বা ৮২৩ কোটি ডলারের পণ্য আসে চীন থেকে। যা ওই অর্থবছরে আমদানি করা পণ্যের ২২ শতাংশ।

আমদানির ওই হিসাবের মধ্যে নগদ, বায়ার্স ক্রেডিট, আইডিবি বা আইটিএফসি ঋণ, ঋণ ও অনুদান অন্তর্ভুক্ত। বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সামগ্রিক আমদানি ব্যয় কিছুটা বাড়ায় চীন থেকে আমদানির পরিমাণও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের আমদানি ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ করেনি।

চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসে সুতা ও কাপড়জাতীয় পণ্য। প্রায় ২০ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে পারমাণবিক চুল্লি, বয়লার ও শিল্প যন্ত্রপাতি।

ওই অর্থবছর বাংলাদেশ চীন থেকে ৭৩০ কোটি টাকার কাগজ ও মণ্ডজাতীয় পণ্য আমদানি করে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ আমদানি করে ৬৪৮ কোটি টাকার। কফি, চা ও মসলা আমদানি করে ১৪০ কোটি টাকার।

চীনের পরে ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে। এরপরে রয়েছে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান, কোরিয়া, ব্রাজিল, কুয়েত, হংকং, তাইওয়ানসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ও প্রধান রপ্তানি পণ্যসংক্রান্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দুই হাজার ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এর মধ্যে চীনে রপ্তানি করে পাঁচ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বা ৭২ কোটি ডলারের পণ্য। যা ওই অর্থবছরে রপ্তানি করা পণ্যের মাত্র ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি করা পণ্যের তালিকায় রয়েছে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াকরণ পাটপণ্য ও কাঁচা পাট, চিংড়ি ও হিমায়িত মত্স্য, হোম টেক্সটাইল ও টেরিটাওয়েল এবং হস্তশিল্পসহ কয়েক ধরনের পণ্য।

২০১৪-১৫ অর্থবছরের আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের হিসাব থেকে দেখা যায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৭৫১ কোটি ডলারের। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এর পরেই জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার হয়েছে। এ ধরনের ঘাটতি বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশের জন্য বেমানান বলে মনে করে এ খাতসংশ্লিষ্টরা। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশি পণ্য বহুমুখীকরণ ও চীনে রপ্তানি বৃদ্ধি করা দরকার বলে তারা মনে করে।

বাণিজ্য সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন রশিদ সম্প্রতি এক কর্মশালায় বলেন, বিশ্বের দ্রুত বর্ধমান ভোক্তাবাজারগুলোর মধ্যে চীন অন্যতম। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সালের মধ্যে চীনের ভোক্তাবাজারের আর্থিক পরিমাণ দুই লাখ কোটি থেকে ছয় লাখ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। ব্যবসায়ী ওই নেতা আরো বলেন, চীনের খুচরা বাজার প্রতিবছর ১২ শতাংশ হারে বর্ধিত হচ্ছে। এ বাজারে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, কাঠ ও কাঠ থেকে উৎপাদিত পণ্য প্রভৃতি চীনের বাজারে রপ্তানি করতে পারে।


মন্তব্য