kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্মার্টফোন বাজারে আস্থার সংকটে স্যামসাং

বাণিজ্য ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



স্মার্টফোন বাজারে আস্থার সংকটে স্যামসাং

স্যামসাং গ্যালাক্সি মানেই ক্রেতাদের কাছে নতুন ফিচার, নতুন অ্যাডভেঞ্চার। এভাবেই একের পর এক ফ্ল্যাগশিপ ফোন ছেড়ে বাজার কাঁপায় স্যামসাং।

এরই ধারাবাহিকতায় বাজারে আসে গ্যালাক্সি নোট-৭। এ ফোনটিও স্যামসাংকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে—এমনটাই আশা করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট তো দূরের কথা, বারবার আগুনের ঘটনায় স্যামসাং ব্র্যান্ডই যেন এখন ক্রেতাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।

ব্যাটারি ত্রুটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্মার্টফোন কম্পানিটি গত ২ সেপ্টেম্বর বাজার থেকে ২৫ লাখ নোট-৭ তুলে নেওয়ার ঘেষণা দেয়। এরপর আবারও মেরামত করে নতুন ডিভাইস বাজারে ছাড়া হয়। কিন্তু বাজারে আসা নতুন ফোনেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটতে থাকে। শেষ পর্যন্ত গতকাল মঙ্গলবার স্যামসাং আবারও ফ্ল্যাগশিপ ফোন উৎপাদন স্থগিত ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্যালাক্সি নোট-৭ বাজার থেকে নিয়ে যাওয়ার ফলে স্যামসাং হয়তো সাময়িক বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসানে পড়বে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে যে ব্র্যান্ডের বিশ্বস্ততা, তাতে যে কলঙ্ক লেগে গেল তার কী হবে!

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কম্পানিগুলো গ্যালাক্সি নোট-৭ বিক্রি ও বিনিময় বন্ধ ঘোষণা করে। বড় বড় বিমান সংস্থাও যাত্রীদের বদলে দেওয়া নোট-৭ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করে। রিপিউট্যাশন ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টসের চেয়ারম্যান ও ব্র্যান্ড কৌশল বিশেষজ্ঞ এরিক শিফার বলেন, যদি নোট-৭ বাজারে বিক্রি অব্যাহত থাকত তবে এটি আধুনিক প্রযুক্তির ইতিহাসে যেকোনো ব্র্যান্ডের ধ্বংসের জন্য আত্মঘাতী হতো। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো জানায়, কেনটাকির এক ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে দেখেন তাঁর বেডরুম ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, এতে তিনি মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে পড়েন। এর আগে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের একটি বিমানেও বদলে দেওয়া আরেকটি নোট-৭-এ আগুন ধরার ঘটনা ঘটেছিল।

কেনটাকির নিকোলাসভিলের মিখায়েল ক্লারিং বলেন, ‘আমার ফোনটি ছিল আগেরটির বদলে দেওয়া ফোন। ফলে আমি ভেবেছিলাম, এটি ব্যবহার করা এখন নিরাপদ হবে। কিন্তু আমার বেডরুমে ফোনটিতে যখন আগুন ধরেছিল, তখন সেটি বৈদ্যুতিক চার্জে দেওয়া ছিল না। ’

এর আগে বদলে দেওয়া নোট-৭-এর আরেকটি ডিভাইসে আগুন ধরেছিল সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের একটি বিমানে। বিমানটি কেনটাকি থেকে ম্যারিল্যান্ড যাচ্ছিল। বিমানের মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘একজন যাত্রী জানিয়েছিলেন একটি ডিভাইস থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, তখন আমরা সব যাত্রী এবং ক্রুদের নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনি। বিমান ছাড়ার আগে পুরোপুরি খালি করে এটিকে নিরাপদ করা হয়। ’

এ ঘটনায় শেয়ারবাজারে দরপতন হতে শুরু করে স্যামসাংয়ের। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ স্মার্টফোন কম্পানির শেয়ারের দর পড়েছে ৮ শতাংশ। এতে সিউলের শেয়ারবাজারে সার্বিক দরপতন হয় ১.২ শতাংশ।

সিটি ইনডেক্সের বিশ্লেষক কেন ওডেলাগা বলেন, স্যামসাংয়ের এ ফ্ল্যাগশিপ হ্যান্ডসেট যতটুকু না ক্ষতির কারণ হবে ধারণা করা হয়েছিল, তা এখন তার চেয়েও বেশি হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় স্যামসাংয়ের শেয়ারদরে পতন ঘটছে। তিনি বলেন, স্যামসাংয়ের বাজার মূলধন ২০০ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি। সে কারণেই শেয়ারবাজারে দরপতন এ কম্পানির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠবে। এমনিক এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেক শেয়ারবাজার অস্থির হয়ে উঠতে পারে স্যামসাংয়ের কারণে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফোন তুলে নেওয়ার কারণে স্যামসাংয়ের ক্ষতি ১৭ বিলিয়ন ডলার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এ ফোন নিয়ে ক্রেতাদের মনে যে উদ্বেগ ঢুকে গেছে তা কম্পানির পণ্যে দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব ফেলবে। এ নিয়ে জ্যাকডো রিসার্চের বিশ্লেষক জ্যান ডাউসন বলেন, স্যামসাংয়ের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে খারাপ ঘটনা। এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য