kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা

পাঁচ দিনের ফার্নিচার মেলা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পাঁচ দিনের ফার্নিচার মেলা শুরু

ফার্নিচার মেলা শুরু হতেই স্টলে ভিড় জমায় ক্রেতা-দর্শনার্থী। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের আসবাবপত্রশিল্প একসময় ক্ষুদ্র থাকলেও বর্তমানে তা বড় শিল্প হিসেবে বিকাশ ঘটেছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

এ ছাড়া এ খাতে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা করা গেলে ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে বলে মনে করে এ খাতের উদ্যোক্তারা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় পাঁচ দিনের ১৩তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা ২০১৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা এসব কথা বলে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন। বাংলাদেশ শিল্প মালিক সমিতি এবং ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার লিমিটেড এই মেলা যৌথভাবে আয়োজন করেছে।

বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সূলতানা, ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এ এম আকতারুজ্জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা বলে, এই খাতের ৪০ হাজার কোটি টাকার বিশ্ববাজার রয়েছে। এর মধ্যে চীন একাই প্রায় ৫২ শতাংশ বাজার দখল করে আছে। এ ছাড়া চীন উচ্চমূল্যে সংযোজনী পণ্যে নজর বেশি দেওয়ায় বাংলাদেশের এই বাজারে অবস্থান তৈরি করা খুব সহজ। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংযোগ শিল্পের অভাবে এই খাতের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে না। গত অর্থবছরে এই খাত থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার রপ্তানি আয় হয়েছে। তবে সরকারের ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা উদ্যোক্তাদের আশান্বিত করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত প্রচেষ্টায় গত সাত বছরে দেশে অভাবনীয় সাফল্যে এসেছে। দারিদ্রসীমা কমেছে। বর্তমানে একজন দিনমজুর দিন শেষে ১০ কেজি চাল নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে। এ ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা কৌশলের আওতায় প্রতিবছর সরকার ৩২ হাজার কোটি টাকা খরচ করে। এ ছাড়া রপ্তানি আয় বাড়াতেও নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুবিধা দেয়। আর আসবাব খাতকে এগিয়ে নিতে শুধু নগদ সহায়তা নয়, অগ্রাধিকার খাত হিসেবে অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সূলতানা বলেন, দেশের রপ্তানি খাত মাত্র কয়েকটি পণ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তাই রপ্তানি আয় বাড়াতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে। তাই ফার্নিচারসহ অন্যান্য খাতে রপ্তানি আয় বাড়াতে সরকার নগদ প্রণোদনসহ বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশের ফার্নিচারও বেশ সম্ভাবনাময়ী। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের ফার্নিচার শক্ত অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। গত অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে চার কোটি ৬২ লাখ ডলার ।

দেশের প্রায় ২৬টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। ভোক্তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ছাড় এবং অফার। নতুন নতুন নান্দনিক নকশাসম্পন্ন ফার্নিচার পাওয়া যাবে এই মেলায়। ন্যূনতম ৬০ হাজার টাকা থেকে চার লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে একটি বেডরুম সেট। সব প্রতিষ্ঠানটিই মেলা উপলক্ষে ১০-৩০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে।


মন্তব্য