kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামে দৃষ্টিনন্দন ২০ তলা স্থাপনা

আরিফুর রহমান   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামে দৃষ্টিনন্দন ২০ তলা স্থাপনা

চট্টগ্রাম হবে আগামী দিনে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি—এমন ভাবনা থেকে সেখানে ২০ তলাবিশিষ্ট একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য যেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, তার পাশেই নির্মাণ করা হবে বহুতল ভবনটি।

এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তির দেশ চীনের কাছ থেকে এই টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে বেজা কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ২০ তলা ভবনের একটি নকশা তৈরির কাজও সেরে ফেলেছে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি (সিএইচইসি)।

বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল নির্মাণ, আনোয়ারায় চীনের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত বহুগুণে বেড়ে যাবে। তখন দেশি-বিদেশি অনেক বিনিয়োগকারী চট্টগ্রামে বিনিয়োগের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বে। ওই বিনিয়োগকারীদের কথা মাথায় রেখেই বহুতল ভবনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান বেজার কর্মকর্তারা। বহুতল ভবন নির্মাণ ও আনোয়ারায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা নিয়ে আগামী ১৩ অক্টোবর চায়না হারবারের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বেজার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এখন সবচেয়ে বড় বহুতল ভবন হলো বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র, যেটি ২৫ তলাবিশিষ্ট। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি নিজেদের অর্থায়নে ভবনটি নির্মাণ করেছে।

জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বহুতল ভবনে অর্থায়ন করতে আমরা প্রস্তাবটি এরই মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে চীনের হাইকমিশনে পাঠিয়েছি। আশা করছি শিগগিরই তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাব। ’ বহুতল ভবনে বিনিয়োগকারীদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে বলে জানান তিনি।  

বেজা থেকে বহুতল ভবনের জন্য যে প্রস্তাবনাটি তৈরি করা হয়েছে তাতে ভবন নির্মাণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা উন্নয়নে ভবনটি নির্মাণ করা হবে। একই ছাদের নিচে যাতে সব ধরনের সেবা পাওয়া যায়, তার সব সুযোগ-সুবিধাই থাকবে সেখানে। দেশি-বিদেশি যেকোনো বিনিয়োগকারী চট্টগ্রামে গিয়ে যাতে থাকতে পারে সে জন্য ভবনে থাকবে আন্তর্জাতিক রেস্ট হাউস। থাকবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অফিস। চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চলে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করতে আসবেন তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। বড় বড় কম্পানির কার্যালয়ও থাকবে। ডিপ্লোমা কোর্সেরও ব্যবস্থা থাকবে। বেজার এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি হবে মাল্টিপারপাস ভবন। ভবনটি বেজার আয়ের উৎস হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত কোরিয়ান ইপিজেডকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) আওতায় আনার জন্য চিন্তাভাবনা করছে সরকার। কোরিয়ান ইপিজেডকে বেজার আওতায় আনা হলে সেটি কিভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের এক নীতিনির্ধারক কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজার) অধীনে আটটি ইপিজেড রয়েছে। ইপিজেডগুলো পরিচালিত হয় বেপজার মাধ্যমে। বেজার অধীনে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু কোরিয়ান ইপিজেড চলছে নিজেদের মতো করে। কোরিয়ান ইপিজেড পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুধু একটি সেল আছে, যা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কোরিয়ান ইপিজেডে অনেক অব্যবহূত জমি পড়ে আছে। এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না। কোরিয়ান ইপিজেডকে সরকারের একটি সংস্থার অধীনে আনা জরুরি বলেও মত দেন ওই নীতিনির্ধারক।

এদিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলছে জোরেশোরে। ৭৭৪ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে দেশের প্রথম সরকারি পর্যায়ের অর্থনৈতিক অঞ্চল। এটি স্থাপনের কাজ পেয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেড। এ নিয়ে গত জুনে চায়না হারবারের সঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছেই রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড ও কাফকো। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দূরত্ব হবে মাত্র দুই কিলোমিটার। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের ঢাকা সফরে অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বলছে, চীনের রাষ্ট্রপতির ঢাকা সফরে যতগুলো চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে, এর মধ্যে বড় একটি অংশ থাকবে চট্টগ্রামকে ঘিরে।


মন্তব্য