kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বদলে দেওয়া ফোনেও আগুন!

গ্যালাক্সি নোট-৭ উৎপাদন বন্ধ করল স্যামসাং

বাণিজ্য ডেস্ক   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বদলে দেওয়া ফোনেও আগুন!

শনির দশা যেন কাটছেই না! স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট-৭ ফোনে আগুন ধরার ঘটনায় বড় অঙ্কের লোকসান দিয়ে সব ডিভাইস ফেরত নেয় কম্পানি। এরপর দ্রুত সমস্যার সমাধান করে ক্রেতাদের হাতে আবার নতুন গ্যালাক্সি নোট-৭ তুলে দেওয়া হয়।

কিন্তু বিধিবাম, নতুন করে দেওয়া ফোনেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। গত সপ্তাহে একটি বিমানে বদলে দেওয়া নতুন ফোনে আগুন লাগার পর এবার একই অভিযোগ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক। শেষ পর্যন্ত নোট-৭ উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিতে বাধ্য হলো স্যামসাং।

বদলে দেওয়া নোট-৭ ফোনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত গতকাল সোমবার উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দেয় স্যামসাং। কম্পানির তরফ থেকে জানানো হয়, মান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে আবার এর উৎপাদন শুরু করা হবে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, নতুনভাবে উন্মোচিত গালাক্সি নোট-৭ নিয়ে ভোক্তারা উদ্বিগ্ন। বিষয়টি প্রতিষ্ঠান বুঝতে পেরেছে। এ নিয়ে কম্পানি শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে। এরপরই নোট-৭ ফোনের উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত এলো।

গতকাল একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কম্পানিগুলোও গ্যালাক্সি নোট-৭ বিক্রি ও বিনিময় বন্ধ ঘোষণা করেছে। বড় বড় বিমান সংস্থাগুলোও যাত্রীদের বদলে দেওয়া নোট-৭ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেছে। রিপিউট্যাশন ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টসের চেয়ারম্যান ও ব্র্যান্ড কৌশল বিশেষজ্ঞ এরিক শিফার বলেন, যদি নোট-৭ বাজারে বিক্রি অব্যাহত থাকত তবে এটি আধুনিক প্রযুক্তির ইতিহাসে যেকোনো ব্র্যান্ডের ধ্বংসের জন্য আত্মঘাতী হতো।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো জানায়, কেনটাকির এক ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে দেখেন তাঁর বেডরুম ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। এতে তিনি মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে পড়েন। এর আগে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের একটি বিমানেও বদলে দেওয়া আরেকটি নোট-৭ ফোনে আগুন ধরার ঘটনা ঘটেছিল।

কেনটাকির নিকোলাসভিলের মিখায়েল ক্লারিং বলেন, ‘আমার ফোনটি ছিল আগেরটির বদলে দেওয়া ফোন। ফলে আমি ভেবেছিলাম এটি ব্যবহার করা এখন নিরাপদ হবে। কিন্তু আমার বেডরুমে ফোনটিতে যখন আগুন ধরেছিল তখন সেটি বৈদ্যুতিক চার্জে দেওয়া ছিল না। ’ এ নিয়ে বিবিসির উত্তর আমেরিকার প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদক ডেভ লি বলেন, ‘স্যামসাং এখন বড় ধরনের সংকটের মধ্যে আছে। তারা ক্রেতাদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটুকু গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, সর্বশেষ এ খবর তা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ’ স্যামসাং নোট-৭ ফোনের ব্যাটারি ত্রুটির ব্যাপক অভিযোগ এবং আগুন লাগার ঘটনার পর গত সেপ্টেম্বর মাসে এ ডিভাইসগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং গ্রাহকদের তা বদলে নতুন ডিভাইস দেওয়া হয়। তখন স্যামসাংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তারা সমস্যা চিহ্নিত করেছে এবং তা মেরামতও করে দিয়েছে।

এর আগে বদলে দেওয়া নোট-৭ ফোনের আরেকটি ডিভাইসে আগুন ধরেছিল সাউথ-ওয়েস্ট এয়ারলাইনসের একটি বিমানে। বিমানটি কেনটাকি থেকে ম্যারিল্যান্ড যাচ্ছিল। বিমানের মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘একজন যাত্রী জানিয়েছিলেন একটি ডিভাইস থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, তখন আমরা সব যাত্রী এবং ক্রুদের নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনি। বিমান ছাড়ার আগে পুরোপুরি খালি করে এটিকে নিরাপদ করা হয়। ’ এ ব্যাপারে স্যামসাং বলেছে, বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছে। বিবিসি।


মন্তব্য