kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত হবে ব্যবসায়ীদের সহায়তায়

ফারজানা লাবনী   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত হবে ব্যবসায়ীদের সহায়তায়

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সুপারিশে ৫৮ জন ব্যবসায়ীকে প্রশিক্ষক হিসেবে মনোনীত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ভ্যাট আইন ২০১২-এর নানা দিক নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করবে।

বিশেষ করে তৃণমূলের ব্যবসায়ীদের কাছে ভ্যাট আইন ব্যবহারের সুফল তুলে ধরবে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

প্রণয়নকালীন সময়েই ভ্যাট আইন ২০১২-এর বিভিন্ন ধারা পরিবর্তনে ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়েছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যবসায়ীদের আপত্তি আমলে না এনেই আইনটি জাতীয় সংসদে অনুমোদন দেন। আইনটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব বাড়তে থাকে। ব্যবসায়ীদের বিরোধিতায় চলতি অর্থবছরে ঘোষণা দিয়েও অর্থমন্ত্রী আইনটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হন। এতে দাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অসন্তোষের মুখে পড়েন অর্থমন্ত্রী। আগামী অর্থবছরে যেকোনো মূল্যে আইনটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে—এমন নির্দেশ দিয়ে এরই মধ্যে এনবিআরে চিঠি পাঠিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এনবিআর এই নির্দেশ বাস্তবায়নে চলতি বছরের শুরু থেকেই উদ্যোগ নিয়েছে। ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও সেরে ফেলেছে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের নতুন কৌশলের মধ্যে অন্যতম হলো ৫৮ ব্যবসায়ীকে প্রশিক্ষক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া। এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের সুপারিশে ব্যবসায়ীদের নির্বাচন করে প্রশিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়।  

দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে এনবিআরের নেতৃত্বে ৫৮টি কমিটি পর্যায়ক্রমে সফর করবে। প্রশিক্ষক ব্যবসায়ীদের এনবিআর ভ্যাট শাখার কর্মকর্তারা চলতি মাসের শুরু থেকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ চলবে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভ্যাট আইনসম্পর্কিত এ কমিটি দেশব্যাপী সফর শুরু করবে। ভ্যাট আইনসম্পর্কিত এ কমিটির সফরসম্পর্কিত ব্যয় এনবিআর বহন করবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী অর্থবছরে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এনবিআরকে সহযোগিতা করছে ব্যবসায়ীরা। এনবিআরের সঙ্গে সফরে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট আইনের ভালো দিকগুলো উপস্থাপন করবে। ভালোকে ভালো বলতে আপত্তি কোথায়। তবে ভ্যাট আইনের যেসব ধারায় ব্যবসায়ীদের এখনো আপত্তি তা থেকে এনবিআরকে সরে আসতে হবে। বিতর্কিত ধারাগুলো বাদ দিয়েই ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের কাছে ভ্যাট আইন সম্পর্কে বলবে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরুতে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এনবিআরকে ভ্যাট আদায় করতে হবে। ভ্যাট আইনের ভালো দিকগুলো সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। বিশেষভাবে তৃণমূলে ব্যবসায়ীদের অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভ্যাট আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো নিয়েও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। সব সমস্যার সমাধান করেই ভ্যাট বাস্তবায়নে যেতে হবে। ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

দাতা সংস্থা আইএমএফ থেকেও ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এনবিআরকে। চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নকালীন সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আইএমএফের চিঠিতে ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়ন সম্পর্কে বলা হয়, গত কয়েক অর্থবছর থেকে উদ্যোগ নিয়েও ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। অনেক কারণের অন্যতম ব্যবসায়ীদের আপত্তি। সাধারণ ব্যবসায়ীরা আইনটির ভালো দিকগুলো সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে জানতে পারছে না। এনবিআরের উচিত আইনটি সম্পর্কে যথাযথ প্রচার করা। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নেওয়ার সুপারিশ করে দাতা সংস্থা।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়েই ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়নে যাবে এনবিআর। এ জন্য এনবিআরের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংলাপ চলছে। দেশব্যাপী তৃণমূলের ব্যবসায়ীদের কাছে ভ্যাট আইনের ভালো দিকগুলো তুলে ধরা হবে। এই আইন ব্যবহারে কিভাবে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে তা জানানো হবে। আশা করি আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই আইনটি বাস্তবায়ন করতে পারব। ’


মন্তব্য