kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও রপ্তানি আয় বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও রপ্তানি আয় বেড়েছে

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ সময় ৮০৭ কোটি ৮৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার বা ৯.৬৯ শতাংশ কম।

প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৯৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তবে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এই তিন মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪.১২ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৭৭৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। গতকাল সোমবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবির দেওয়া হালনাগাদ তথ্য থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ইপিবির পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি বাড়লেও সেপ্টেম্বরে তা কমেছে। গত মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২২৪ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় যা ৫.৬৩ শতাংশ কম। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি ছিল ২৩৭ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। ঈদের ছুটির কারণে রপ্তানি আয় কম হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারক ও বিশ্লেষকরা।

জানতে চাইলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অভ্যন্তরীণ একটি কারণ হতে পারে ঈদের ছুটি। জুলাইয়েও ঈদের লম্বা ছুটির কারণে রপ্তানি আয় প্রায় ৯ শতাংশ কমেছিল। সেই অর্থে বরং সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, রপ্তানির বড় দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চাহিদাজনিত কারণেও রপ্তানি কম হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে দেশের রপ্তানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক থেকে প্রথম প্রান্তিকে আয় হয়েছে ৬৬৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৩.৫২ শতাংশ বেশি। গেল বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছিল ৬৪৩ কোটি ডলার। তৈরি পোশাকের মধ্যে নিট পোশাকের রপ্তানি এই প্রান্তিকে ছিল ৩৪০ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ৪.৬৪ শতাংশ। আর ওভেন পোশাকের রপ্তানি ছিল ৩২৬ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ২.৩৮ শতাংশ।

২০২১ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে পাঁচ হাজার কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে এখন থেকে বছরপ্রতি গড়ে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দরকার। তবে বর্তমানে যে হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে করে এই লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন গবেষক খন্দকার মোয়াজ্জেম। তিনি মনে করেন, লক্ষ্যপূরণ না হলেও এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়া উচিত। তাতে ইতিবাচক ফলই আসবে।

অন্য প্রধান রপ্তানি খাতগুলোর মধ্যে হিমায়িত এবং জীবন্ত মাছ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। এই আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪.৫২ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩.৮৭ শতাংশ বেশি। চিংড়ি রপ্তানি থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪.২৪ এবং গত অর্থবছরের একই সময় থেকে ১৩.৯৫ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে এই প্রান্তিকে আয় হয়েছে ৩১ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। তবে চামড়া রপ্তানিতে আয় কম হয়েছে। এ সময় আয় হয়েছে ছয় কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ০.৯৩ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.১৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে চামড়ার জুতা রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩.৭০ শতাংশ আয় বেশি হয়েছে, যা অর্থবছরের একই সময় থেকে ২২.৮৪ শতাংশ বেশি।

ভালো যাচ্ছে না অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত কৃষি, ওষুধ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে। গত তিন মাসে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ২০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২.২৬ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৯৯ শতাংশ কম। ওষুধ রপ্তানিতে আয় হয়েছে দুই কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২.৫ শতাংশ কম।


মন্তব্য