kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘শুল্ক বাধা দূর হলে ভারত বাংলাদেশ বাণিজ্য হবে ১০ বিলিয়ন ডলার’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘শুল্ক বাধা দূর হলে ভারত বাংলাদেশ বাণিজ্য হবে ১০ বিলিয়ন ডলার’

আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অশুল্ক ও আধা শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ জন্য সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক ও  আন্তবাণিজ্য বাড়াতে অভিন্ন মানব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি অ্যাক্রেডিটেশন ও পরীক্ষণ সনদের পারস্পরিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শিল্পমন্ত্রী গতকাল সার্ক এক্সপার্ট গ্রুপ অন অ্যাক্রেডিটেশনের পঞ্চম সভার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পণ্য ও সেবার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দুদিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জার্মানির মান সংস্থা পিটিবির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিএবি মহাপরিচালক মো. আবু আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক এল সাবিত্রি ও জার্মানির মান সংস্থা পিটিবির প্রতিনিধি ড. ক্রিস্টিয়ান স্টেঞ্জ বক্তব্য দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘সার্কভুক্ত অঞ্চলে ১.৭ বিলিয়ন জনসংখ্যার বিশাল বাজার থাকলেও পণ্যের গুণগত মান ও মান অবকাঠামোর দুর্বলতার কারণে আন্তবাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অশুল্ক ও আধা শুল্ক প্রতিবন্ধকতার কারণে সার্কভুক্ত অঞ্চলে ব্যবসার ব্যয় বাড়ছে। ফলে এ অঞ্চলে আন্তবাণিজ্যের পরিমাণ দেশগুলোর মোট রপ্তানি বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশ। সার্ক অঞ্চলে আঞ্চলিক মান চুক্তির বাস্তবায়ন এবং পরীক্ষণ সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির মাধ্যমে এ বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ এ লক্ষ্যে কাজ করছে। ’

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে বাংলাদেশ কোয়ালিটি কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একনেকে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। শিগগিরই কোয়ালিটি কাউন্সিল গঠন করা হবে। পণ্য ও সেবার গুণগত মান সনদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে বিএবি ইতিমধ্যে ৪০টি স্থানীয় ও বহুজাতিক টেস্টিং ও ক্যালিব্রেশন গবেষণাগার, একটি মেডিক্যাল গবেষণাগার, দুটি সার্টিফিকেশন সংস্থা ও একটি ইন্সপেকশন সংস্থাকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদানে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

উল্লেখ্য, দুদিনব্যাপী এই সভায় বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মান বিশেষজ্ঞ ছাড়াও জার্মানি এবং দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক মান সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সার্ক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন মান প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, মান অবকাঠামোর উন্নয়ন, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা অপসারণসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সার্ক অঞ্চলের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


মন্তব্য