kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা বাড়াতে ৮ দফা সুপারিশ

ধর্মঘট বন্ধে আইন চায় বন্দর ব্যবহারকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ধর্মঘট বন্ধে আইন চায় বন্দর ব্যবহারকারীরা

চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা ও সক্ষমতা বাড়িয়ে বিদ্যমান সংকট উত্তরণে আট দফা সুপারিশ দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বারের পোর্ট ও শিপিং কমিটি। গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বন্দর ব্যবহারকারীদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক থেকে এসব সুপারিশ উঠে আসে।

কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বসে সুনির্দিষ্টভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি এবং উত্তরণের উপায় নির্ধারণ করেছি। এখন এই সুপারিশগুলো আমরা বন্দর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়নের জন্য পাঠিয়েছি। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেও অবহিত করব। ’

মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘বন্দরের যে হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সেটিকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঘাত আমরা চাই না। এ জন্য বন্দরকে জিম্মি করে যাতে কেউ ধর্মঘট ডাকতে না পারে সে জন্য আইন প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছি। ’

এসব সুপারিশের মধ্যে আছে—বন্দরে বর্তমানে খালি কনটেইনারের ভয়াবহ জট থেকে উত্তরণে বন্দরের বাইরে লালদিয়া চরে খালি কনটেইনার রাখার ডিপো স্থাপন। বন্দরে কনটেইনার ওঠানামার আধুনিক যন্ত্র ‘গ্যান্ট্রি ক্রেনে’র বিকল্প হিসেবে কলকাতা বন্দরের মতো ‘মোবাইল হারবার ক্রেন’ দিয়ে সাময়িক সংকটের সমাধান। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বার্থ অপারেটরদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা, বার্থ অপারেটরদেরও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের অনুমোদন দিয়ে পণ্য ওঠানামায় গতিশীলতা আনা। জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধার জন্য বন্দরের ১ ও ২ নম্বর জেটি ড্রেজিং করা। বহির্নোঙরে আলফা অ্যাংকরেজে প্রচুর স্ক্র্যাপ শিপ রাখার কারণে ভাড়ায় পণ্য নিয়ে আসা জাহাজে সমস্যা হচ্ছে। তাই কুতুবদিয়া পর্যন্ত বন্দরের সীমা বৃদ্ধি করা।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়সাধন এবং বন্দরে স্ক্যানিং মেশিন সংখ্যা বাড়ানো। সদরঘাট এলাকায় পুরনো পদ্ধতির পণ্য খালাসের বদলে কনভেয়র বেল্ট দিয়ে কিংবা পৃথক জেটি নির্মাণ। বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার জন্য সব ধরনের হরতাল, ধর্মঘট নিষিদ্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়েছে বৈঠকে।

কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজুল হক শাহর সভাপতিত্বে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্তিক শিপিংয়ের ইঞ্জিনিয়ার গোলাম সরওয়ার, চিটাগাং এন্টারপ্রাইজের মো. আবদুল মান্নান সোহেল, বার্থ অপারেটরস শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফজলে ইকরাম চৌধুরী, হুন্দাই ওশ্যান ইন্টারন্যাশনালের আতাউল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আহসানুল হক চৌধুরী, কনটেইনার লাইন ওওসিএলের ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, মার্কস বাংলাদেশ লিমিটেডের সরওয়ার আলম চৌধুরী, মার্স মেরিটাইম সার্ভিসেসের এমডি ক্যাপ্টেন আলাউদ্দিন আল আজাদ, সেরাচেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সাগর দোভাষ, গ্রিন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের এ কে এম শামসুজ্জামান (রাসেল) এবং কিং মেরিটাইম সার্ভিসেসের মো. আবু সাঈদ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য