kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চাকরি শেষে পাঁচ লাখ টাকা পাবে পোশাক শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চাকরি শেষে পাঁচ লাখ টাকা পাবে পোশাক শ্রমিকরা

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা চাকরি শেষে একসময় শূন্য হাতে বাড়ি ফিরলেও এখন আর খালি হাতে ফিরবে না বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ‘এবার প্রত্যেক শ্রমিক তাদের চাকরি শেষে পাঁচ লাখ টাকা করে নিয়ে বাড়ি যেতে পারবে।

আর আগামী ডিসেম্বর থেকেই তারা এই টাকা পাবে কেন্দ্রীয় শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে। ’

গতকাল রাজধানী মতিঝিলে চেম্বার ভবনে ‘নিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও স্বাস্থ্য’ (ওএসএইচ)-এর তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুজিবুল হক আরো বলেন, ‘পোশাক খাতের কোনো শ্রমিক চাকরি ছেড়ে গেলে বা মারা গেলে তিন লাখ টাকা পাবে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে এবং বীমা কম্পানি থেকে আরো দুই লাখ টাকাসহ মোট পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি যাবে প্রত্যেক শ্রমিক। আর চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য গঠিত কেন্দ্রীয় শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে এ কল্যাণ ভাতা পাবে তারা। ’

অনুষ্ঠানে মালিকদের শ্রমিকদের প্রতি আরো মানবিক হওয়ার আহবান জানিয়ে মুজিবুল হক  বলেন, ‘শ্রমিকরা তার নায্য পাওনার জন্য আদালতে গেলে সেখানেও হয়রানি করা হয়। অনেক মালিক কৌশলে এই হয়রানি করে। মাত্র ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার জন্য এমন হয়রানি না করে মানবিক হতে হবে। ’

কর্মস্থলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মুজিবুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ কর্মস্থল আছে। আর এসব কলকারখানার নিরাপত্তা তদারকি করতে আমাদের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ২০ হাজার পরিদর্শক লাগবে। বর্তমানে আছে মাত্র ২৫০ জন। ’ তাই তিনি মালিকদের এ ক্ষেত্রে যথার্থ ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন। তবে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর সক্রিয় সহযোগিতা পান বলে তিনি জানান।

বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কারখানাগুলোয় বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় অধিক নিরাপদ পরিবেশ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আন্তজার্তিক শ্রম সংস্থা এবং দাতা সংস্থাগুলো বেশ সহযোগিতা করেছে।

বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের কারখানাগুলো কর্মক্ষেত্র নিরাপদ রাখতে গত তিন বছরে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার হাইকমিশনার বেনয়েট পিয়েরে লারামি। তিনি বলেন, সব শ্রমিকের নিরাপদ কর্মপরিবেশের অধিকার আছে। তাই কানাডা সরকার বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ বিষয়ে বেশ সচেতন। কারণ এই দেশ থেকে কানাডা প্রতিবছর ১০০ কোটি টাকার বেশি তৈরি পোশাক আমদানি করে।

উদ্যোক্তারা জানায়, ‘নিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও স্বাস্থ্য’ (ওএসএইচ)-এর তৃতীয় পর্যায়ে পোশাক খাতের ৫৮৫টি প্রতিষ্ঠানের সাত লাখ থেকে আট লাখ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বিইএফের সভাপতি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি গোলাম মঈন উদ্দিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইএলওর এ দেশীয় পরিচালক শ্রীনিবাস রেড্ডি, বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএ সহসভাপতি মনসুর আহমেদ প্রমুখ।


মন্তব্য