kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


২৫টির বেশি প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন আশা করছে ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



২৫টির বেশি প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন আশা করছে ঢাকা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের ঢাকা সফরকালে অনেক বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, সফরকালে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে বেশ কিছু ইতিমধ্যে অর্থনীতিবিষয়ক সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনা অর্থায়নে কিছু সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, চীনা অর্থায়নে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, সেসব প্রকল্পের ঠিকাদারির কাজ কোনো রকম দরপত্র আহ্বান করা ছাড়াই চীনা কম্পানিকে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। এ শর্তের বিষয়টি নিয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে।

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আগামী ১৪ অক্টোবর চীনা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে। তাঁর আগমন উপলক্ষে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। চীন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করলেও গত তিন বছর ধরে নতুন কোনো ঋণচুক্তি না হওয়ায় হতাশা রয়েছে সরকারের মধ্যে। গত আগস্ট মাসে নিজের হতাশা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন, যেখানে ২৫টি প্রকল্পের তালিকা উল্লেখ করে এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তার ব্যাপারে দ্রুত চীন সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছেন তিনি। চীনা প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে ওই ২৫টি প্রকল্পসহ আরো বেশ কিছু প্রকল্পে অর্থায়ন আশা করছে ঢাকা। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিপুল বাণিজ্য বৈষম্য কমাতে আরো বেশি রপ্তানির সুযোগ খুঁজছে বাংলাদেশ।

সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে ভারত, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন উচ্চতর স্তরে আছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এখন বাংলাদেশের এক নম্বর বন্ধু চীন। জাপান দুটি পণ্য বাদে সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ নীতি অব্যাহত থাকবে। চীনের অনেক বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসার সুযোগ আছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার চীনকে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনের পছন্দমতোই তাদের তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়বে।

চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ১১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এ মুহূর্তে চীনে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি আছে প্রায় আট বিলিয়ন ডলার। তবে জুলাই-আগস্ট সময়ে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে। গত তিন মাসে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার ২৫ শতাংশ। আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে চীনে রপ্তানি দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। ’  বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সব সময় আলোচনা হলেও চীনের সঙ্গে ঘাটতি নিয়ে কম আলোচনা হয়। তবে ভারতের সঙ্গে যে বাণিজ্য ঘাটতি আছে তাতে আমরাই লাভজনক হচ্ছি। ভারত আমাদের তামাক ও মদ ছাড়া সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা কম। আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক, ভারতও তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। তাই সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে না। ’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ বলেন, চীনের মোট  দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) পৃথিবীর মোট অর্থনীতির প্রায় ১৬ শতাংশ। চীন অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির রিজার্ভ ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। চীন শুধু রপ্তানিই করে না, আমদানির ক্ষেত্রেও চীন বৃহৎ দেশ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীন প্রতিবছর বিদেশে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করে তার ১ শতাংশ বাংলাদেশে আনতে পারলে বিশাল টাকা। যাতে কমপক্ষে চীনের ১ শতাংশ এফডিআই বাংলাদেশে আসে, সেই চেষ্টা করতে হবে। তবে চীনের বিনিয়োগ আনতে আমাদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও অবকাঠামোয় জোর দিতে হবে। ’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম  মোয়াজ্জেম বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ‘টেস্ট কেস’ হবে। চীন থেকে আমদানি বহুমুখী হচ্ছে। তবে আমাদের রপ্তানি বহুমুখী হচ্ছে না। চীন আমাদের বাজার সুবিধা দিলেও তা কাজে লাগাতে পারছি না। চীনের বিনিয়োগ বাংলাদেশে বাড়ছে, এটি ইতিবাচক দিক। তবে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগের ৯০ শতাংশই হচ্ছে বস্ত্র খাতে। ”

ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, সাবেক  সেনাপ্রধান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে জে (অব.) মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক নেতা মনজুরুল ইসলাম বুলবুল ও ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বক্তব্য দেন।


মন্তব্য