kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৯৭ গার্মেন্টের সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করেছে অ্যালায়েন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



৯৭ গার্মেন্টের সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করেছে অ্যালায়েন্স

তৈরি পোশাক খাতের উত্তর আমেরিকার ক্রেতাজোট সংগঠন অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার  সেফটি (অ্যালায়েন্স) বাংলাদেশ থেকে তাদের ক্রেতারা পোশাক নেয় এমন কারখানার মধ্যে ৯৭টির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাতিল করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অ্যালায়েন্সের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, অ্যালায়েন্স তিন বছর ধরে বাংলাদেশে গার্মেন্ট কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন ও সংস্কারকাজ তদারকি করছে। আলোচ্য সময়ে ৭৫৯টি কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব কারখানার অগ্নি, ভবনের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে সময়সীমা দেওয়া হলেও অনেক কারখানাই তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ রকম ৯৭টি কারখানার সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করেছে অ্যালায়েন্স। এসব কারখানা অ্যালায়েন্সভুক্ত কোনো ক্রেতা বা ব্র্যান্ডের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কারখানাগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা দেন অ্যালায়েন্সের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেস ওম্যান অ্যালেন টশার। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের মধ্যে অ্যালায়েন্সভুক্ত কারখানাগুলোকে নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন করতে হবে। অন্যথায় তাদের সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করা হবে। কেননা আমাদের কাছে শ্রমিকের নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ’ এদিকে বাংলাদেশের অ্যালায়েন্সের কার্যক্রমের চার বছর পদার্পণ উপলক্ষে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক টেলিকনফারেন্সে মিলিত হন বাংলাদেশের অ্যালায়েন্সের পরিচালক জেমস এফ মরিয়ার্টি। তিনি বাংলাদেশে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। অ্যালায়েন্স প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত ৪০টি কারখানা সব ধরনের ত্রুটি সংশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছে। আর পরিদর্শনের কারখানাগুলোর যত ধরনের অগ্নি, ভবনের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে, তার ৬৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বড় ধরনের ত্রুটি সংশোধনের হার ৫৫ শতাংশ। কারখানায় শ্রমিকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্যগত ইস্যু দেখভালের জন্য ৫৪টি কারখানায় শ্রমিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া অগ্নি দুর্ঘটনার বিষয়ে সচেতন করতে এ পর্যন্ত ১২ লাখ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

জেমস এফ মরিয়ার্টি বলেন, কারখানা সংস্কারের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা অগ্রগতিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারখানায় জীবিকার জন্য কাজ করা শ্রমিকদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। সংস্কার এবং শ্রমিকের ক্ষমতায়ন হাতে হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে।


মন্তব্য