kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এক বছরেই উপযোগী হবে ‘চায়না ইকোনমিক জোন’

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এক বছরেই উপযোগী হবে ‘চায়না ইকোনমিক জোন’

প্রকল্পে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রস্তাবিত ‘চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গেছে। তবে আগামী ১৪ অক্টোবর এই মেগা প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং।

একই দিন এই দুই রাষ্ট্রীয় নেতা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরেক মেগা প্রকল্প ‘কর্ণফুলী টানেল’ নির্মাণের কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করবেন। তবে ১৬ হাজার কোটি টাকার চায়না ইকোনমিক জোন বিনিয়োগ উপযোগী হয়ে উঠতে আরো এক বছর সময় লাগবে। চীনা কম্পানিগুলো প্রাধান্য পেলেও স্থানীয় এবং বিদেশি কম্পানিগুলোরও বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে বলে বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্রে জানা গেছে।

জিটুজি (বাংলাদেশ ও চায়না সরকার) পদ্ধতিতে আনোয়ারা উপজেলায় ৭৭৪ একর জমিতে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বাস্তবায়নকারী সংস্থা চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি। এতে ৩৭১টি শিল্প-কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে ৫৩ হাজারের বেশি মানুষের। কর্ণফুলী টানেল এবং চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়িত হলে আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকা ঘিরে শিল্পায়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। টানেল ও বিশেষ শিল্পাঞ্চল পাল্টে দেবে পুরো এলাকার চেহারা।

প্রসঙ্গত, গত বছর জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে এই বিশেষ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। পরে এ বিষয়ে বেজা ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়।

সরকারের উপসচিব মর্যাদার বেজার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সোহেলের রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই ইকোনমিক জোনে মূলত চীনের কম্পানি প্রাধান্য পাবে। তবে স্থানীয় কিংবা অন্য বিদেশি কম্পানিরাও বিনিয়োগের সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি এবং বেজা মিলে একটি কম্পানি গঠন করবে। সেই কম্পানির সুপারিশে অন্যরা বিনিয়োগের সুযোগ পাবে। ’

সোহেলের রহমান আরো বলেন, ‘একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগ উপযোগী করে গড়ে তুলতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। এখন রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস যাবে। মাটি ভরাট করে কারখানা স্থাপনের উপযোগী করা হবে। এসব কাজ শেষ হতে আরো প্রায় এক বছর সময় লাগবে। ’

বেজা সূত্র জানায়, আনোয়ারার চীনা শিল্পাঞ্চলটি হবে দেশের প্রথম জিটুজি অর্থনৈতিক অঞ্চল। যাতে চীনের শতভাগ বিনিয়োগ থাকবে। সেখানে সরকারের ৩০ শতাংশ আর চীনা বিনিয়োগকারীদের ৭০ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকবে।

চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প জোন সম্পর্কে জানতে চাইলে আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গৌতম বাড়ৈ বলেন, ‘১৪ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের জন্য কাজ চলছে। তবে পুরো রাস্তার এখন কাজ হবে না। শুধু ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পের উদ্বোধনের জন্য আমরা স্থানটিকে নির্বাচন করে রাখছি। ’

 

জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলায় বেলচূড়া, হাজিগাঁও, বটতলী বৈরাগ ও গহিরা এলাকার ৭৭৪ একর জমিতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকায় এই অর্থনৈতিক ও শিল্প জোন গড়ে তোলা হবে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯ কিলোমিটার, শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরত্বে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল অবস্থিত। তবে প্রস্তাবিত কর্ণফুলী টানেল বাস্তবায়িত হলে এই দূরত্ব অর্ধেকে নেমে আসবে। প্রকল্পটিতে জাহাজ নির্মাণ শিল্প, তৈরি পোশাক, রাসায়নিক, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেলিযোগাযোগ, কৃষিনির্ভর শিল্প-কারখানা, ইলেকট্রনিকস, প্লাস্টিক, আইটি ও আইটি নির্ভর ৩৭১টি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের জন্য ২৯১ একর খাস জমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। বাকি ৪৮৪ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ৯ একর ভূমি এখনো অধিগ্রহণ করা হয়নি এবং ভূমির মালিকরা এখনো অর্থ পায়নি।


মন্তব্য