kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রপ্তানি পণ্য জাহাজে তুলতে অগ্রাধিকার

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রপ্তানি পণ্য জাহাজে তুলতে অগ্রাধিকার

বিজিএমইএর অনুরোধে রপ্তানি পণ্য দ্রুত জাহাজীকরণে ব্যবস্থা নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ধর্মঘটে আটকে পড়া রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার জাহাজিকরণ বা জাহাজে তুলে দিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। রপ্তানি পণ্য জাহাজে তুলে দিতে গত কয়েক দিনে একাধিক জাহাজকে নির্ধারিত সময়ের এক দিন বাড়তি রাখা হচ্ছে।

জেটিতে এক দিন বাড়তি থাকায় বহির্নোঙরে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজের জট লেগে গেছে। তার পরও রপ্তানিকারকদের স্বার্থে এই সুবিধা দিচ্ছে বন্দর। এতে বেশ সুফল এসেছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) গোলাম ছারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রপ্তানি পণ্য জাহাজে তুলতে অগ্রাধিকার দিয়েছি আমরা। আটকে পড়া এসব রপ্তানি পণ্যের জাহাজ তো অনেক আগেই বন্দর ছেড়ে গেছে। তাই সব রপ্তানি পণ্য চাইলে তো একসঙ্গে এক জাহাজে তুলে দেওয়া যায় না। সে কারণে প্রতিটি জাহাজে কিছু কিছু তুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুত সফলতা আসবে। ’

এদিকে ধর্মঘটের ফলে বন্দর ইয়ার্ড ও ১৬ কনটেইনার ডিপোতে আটকে পড়া রপ্তানি পণ্য দ্রুত জাহাজিকরণ করতে বন্দরের সহযোগিতা চেয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। গত ২ অক্টোবর বিকেলে বিজিএমইএ নেতারা বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রাতে জাহাজ চলাচলের গতি বাড়িয়ে সেখানে পণ্য দ্রুত জাহাজিকরণ, কনটেইনার জাহাজগুলোর গড় অবস্থানকাল তদারক করা, পণ্য ওঠানামার গতি বাড়ানোর কথা জানান এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেন।

বিজিএমইএ পরিচালক আ ন ম সাইফুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে উন্নতির লক্ষণ দেখছি। রপ্তানি কনটেইনার জাহাজিকরণ হচ্ছে ঠিকমতো। একই সঙ্গে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ১৪টি কনটেইনার বহির্নোঙরে অপেক্ষায় রয়েছে। সঠিক তদারকির মাধ্যমে সেগুলো দ্রুত জেটিতে ভেড়ার ব্যবস্থা করা উচিত। ’

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাইম মুভার ও ট্রেইলর মালিক-চালকদের ধর্মঘট শুরুর পর থেকে গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি পণ্য নিয়ে জাহাজ ছেড়েছে ২ অক্টোবর। সেদিন ছয়টি জাহাজ ছাড়ার কথা থাকলেও পাঁচটি জাহাজেই পণ্য জাহাজিকরণ হয়েছে ২০ ফুট দীর্ঘ তিন হাজার ৬৪৫ একক কনটেইনার। বিদেশি জাহাজ পরিচালনাকারী দেশীয় সংস্থা জিবিক্স লাইনের ডেপুটি ম্যানেজার ফখরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রপ্তানি কনটেইনার জাহাজে দ্রুততার সঙ্গে তুলতে খুব সহযোগিতা করেছে বন্দরের বার্থ অপারেটররা। ফলে জাহাজগুলো যথেষ্ট কনটেইনার নিয়ে জেটি ছেড়ে গেছে গত কয়েক দিনে। ’

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান জেটিতে ছয়টি কনটেইনার জেটি রয়েছে। এর বাইরে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালে রয়েছে আরো কিছু জেটি। এসব জেটিতে রপ্তানি কনটেইনার দ্রুত জাহাজিকরণের কাজটি করছে বার্থ অপারেটররা।

চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী বলেন, ‘কনটেইনার জাহাজকে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই জেটি ছাড়তে হয়। এটি নির্ভর করে বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার পরিস্থিতি এবং কনটেইনার ডিপোগুলোর লজিস্টিক সাপোর্ট কেমন তার ওপর। এর কোনোটির কমতি হলে রপ্তানি পণ্য জাহাজিকরণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না।

ফজলে ইকরাম চৌধুরী আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ জেটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় বাড়ানোর পর সর্বোচ্চ কনটেইনার আমরা জাহাজিকরণ করেছি। এখন বহির্নোঙরে জাহাজের দীর্ঘ সারির কারণে তা কঠোর হওয়ায় কিছু কিছু রপ্তানি পণ্য গতকালও জাহাজিকরণ করা যায়নি। এর পরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই সর্বোচ্চ পরিমাণ কনটেইনার জাহাজে তুলতে। ’


মন্তব্য