kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইউরিয়া সার আনা হবে ইরান থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইরান থেকে সরকারি-সরকারি (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে ইউরিয়া সার ও পেট্রো কেমিক্যাল পণ্য আমদানি করবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত স্টিল কারখানা ও চিনিকলের আধুনিকায়নে ইরানের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হবে।

ইরান সফররত শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গত সোমবার ইরানের শিল্প, খনি ও বাণিজ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ রেজা নেমাতজাদেহের সঙ্গে বৈঠককালে বাংলাদেশের এ আগ্রহের কথা জানান। ইরানের শিল্পমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিসিআইসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল, ইরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে শিল্প খাতে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রসারে সরাসরি বিমান চালু, সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল এবং ব্যাংকিং সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে মন্ত্রীদ্বয় বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ এবং ইরান সরকারের শিল্পায়ন রূপকল্প-২০২৫ বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে অর্থবহ সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের কার্যক্রম আবার চালুর বিষয়ে একমত হন। এ সময় ইরানের শিল্প, খনি ও বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকায় ইরানি পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজনের প্রস্তাব দিলে আমির হোসেন আমু এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি ঢাকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ইরানি উদ্যোক্তাদের আরো বেশি করে অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন।

বৈঠকে আমির হোসেন আমু বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, সিরামিক, চামড়াজাত পণ্য ও ওষুুধ আমদানির জন্য ইরানের শিল্পমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি এসব পণ্য আন্তর্জাতিক মানের এবং এগুলো ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে। তিনি ইরান থেকে পেট্রো কেমিক্যাল শিল্প খাতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ বিনিয়োগে ইরানে একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে এ প্রকল্পে তৃতীয় অংশীদার হিসেবে বিশ্বের কোনো খ্যাতনামা কম্পানিকে যুক্ত করা যেতে পারে। তিনি এ কারখানা স্থাপনে ইরানের চাবাহার সমুদ্রবন্দরের নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চলে জমি বরাদ্দের জন্য ইরান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পরে আমির হোসেন আমু ইরান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জি এইচ সাফেলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। শিল্পমন্ত্রী ইরান চেম্বারের প্রতিনিধিদলকে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।


মন্তব্য