kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পণ্যের মূল্য পরিশোধের নামে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পণ্যের মূল্য পরিশোধের নামে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে

পণ্য আমদানিতে বিভিন্ন ধাপে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থপাচার করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়।

এ প্রক্রিয়া বন্ধ করা প্রয়োজন। দেশের অর্থ দেশে রাখতে হবে। তবেই অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ‘উচ্চতর আদালতে বিচারাধীন শুল্ক ও ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর) বিষয়ক মামলার ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ মন্তব্য করেন। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস ও আদালতের ফোকাল পয়েন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুবে আলম বলেন, এলসিতে সবচেয়ে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থপাচার করছে। সাধারণত বিল অব এন্ট্রিতে যে পণ্যের কথা উল্লেখ থাকে প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে কম মূল্যের পণ্য আমদানি করে। এভাবে পণ্যের মূল্যের চেয়ে কৌশলে বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করে।

এনবিআরে নিয়োগপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ অফিসার প্রসঙ্গে মাহবুবে আলম আরো বলেন, এনবিআরকে লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্ববান হতে হবে। দক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে। অনেক লিয়াজোঁ অফিসার মামলায় হারার জন্য মামলাবাজদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে থাকে। তাদের চেষ্টা নিজে লাভবান হওয়ার। সরকারপক্ষ মামলায় হারলে তাদের কিছুই যায় আসে না। এভাবে দুর্নীতিবাজদের জন্য মামলায় সাফল্য আসতে পারে না। তাই লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের সহজে চাকরি না যাওয়ার কারণে অনেক চাকরিজীবী কাজে আন্তরিক হয় না। এ জন্য খারাপ কাজের জন্য যেমন চাকরি যাওয়ার মতো শাস্তি, তেমনি মামলায় সাফল্য এলে সে জন্য পুরস্কার থাকা দরকার।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘উন্নয়নের অক্সিজেন রাজস্ব আদায়ের গতি বৃদ্ধিতে রাজস্বসংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। এ লক্ষ্যে এনবিআর নতুন এ সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি এসব উদ্যোগের ফলে রাজস্বসংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, মামলাজট কমবে, সরকারের পক্ষে রায় আসার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্ভাবনীমূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ’ তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তি হলে সরকারের প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হবে। মতবিনিময় সভায় এনবিআরের পক্ষ থেকে ১৫টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজস্বসংশ্লিষ্ট মামলাগুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের ডেডিকেটেড বেঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, এক কোটি টাকার ওপরের মামলাগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা, কজলিস্টে অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম গ্রহণ করা, অ্যার্টনি জেনারেলের অফিসের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা ইত্যাদি।


মন্তব্য