kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দক্ষিণ এশীয় টেলিযোগাযোগ সম্মেলন শুরু

আঞ্চলিক পর্যায়ে মোবাইলে আর্থিক সেবা চালুর আহ্বান

বিশেষ প্রতিনিধি   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আঞ্চলিক পর্যায়ে মোবাইলে আর্থিক সেবা চালুর আহ্বান

গতকাল ঢাকায় শুরু হওয়া এসএটিআরসির ১৭তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্য অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবা চালুর উদ্যোগ নিতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস বা এমএফএসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় শুরু হওয়া তিন দিনের দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কাউন্সিলের (এসএটিআরসি) ১৭তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (এপিটি) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। এতে আয়োজক বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ ও ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৯টি  দেশের  টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান, টেলিকম অপারেটর, উদ্যোক্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।

রাজধানী ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন। তিনি  বলেন, দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। এর মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। বর্তমানে পাঁচটি অপারেটর থ্রিজি সেবা দিচ্ছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের সাড়ে তিন কোটির বেশি এমএফএস অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমাদের দেশে মোবাইল পেনিট্রেশন বেশি হলেও সেবার মানের দিক থেকে উন্নত দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছি। আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভয়েস ব্যবহারে সীমাবদ্ধ। ভয়েস সেবার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য সেবার সঠিক ব্যবহারে যত দিন না যেতে পারব তত দিন আমরা পিছিয়েই থাকব। ’

শাহরিয়ার আলম আরো বলেন, ‘টেলিযোগাযোগে উন্নত দেশগুলোর সমকক্ষ হতে হলে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সব স্টেকহোল্ডারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আইসিটি ও টেলিকমের সঠিক ব্যবহারই আমাদের উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যেতে পারে। সেই সক্ষমতা ও ইচ্ছা আমাদের আছে। ’

এসএটিআরসির চেয়ারম্যান ও ভারতের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান আর এস শর্মার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী, বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বক্তব্য দেন।    

এর আগে গত সোমবার বিটিআরসির চেয়ারম্যান এ সম্মেলন সম্পর্কে বলেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ যে এসএটিআরসির ১৭তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনে করতে পেরেছে এটা অনেক বড় ব্যাপার।

তিন দিনের এ সম্মেলনে থাকছে ১১টি সেশন ও ‘ইভ্যালুয়েশন অব রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক ইন সাউথ এশিয়া অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক—দ্য রেগুলেটরি টুলস রিকোয়ার্ড’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক।

বিভিন্ন সেশনে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক, সেবার গুণগত মান, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, তরঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, ইন্টারনেট অব থিংকস, পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল সেবা, ওভার দ্য টপ বা ওটিটি হুমকি, সাইবার নিরাপত্তা, এ ফোরামের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্বল্পমূল্যে রোমিং সুবিধা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক ও কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। নির্ধারণ করা হবে এ সংস্থার পরবর্তী অ্যাকশন প্ল্যান ও পরবর্তী সম্মেলেনের স্থান।

উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও এশিয়া প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির (এপিটি) উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ এশিয়ার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এসএটিআরসির নামে এ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রথম সম্মেলন হয় ১৯৯৮ সালে কলম্বোতে। বাংলাদেশেও এর আগে এ সংস্থার তিনবার সম্মেলন হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক বিভিন্ন নীতিমালা, প্রবিধান, নিয়ন্ত্রণ কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে এ সংস্থা কাজ করে থাকে। এ সংস্থার ১৬তম সম্মেলন ভারতে অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থার নিয়ম অনুসারে সম্মেলনের আয়োজক দেশের  টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান পরবর্তী কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সে ক্ষেত্রে বিটিআরসির চেয়ারম্যান এবার এসএটিআরসির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হবেন।


মন্তব্য