kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রেমিট্যান্স কমেছে ১৮ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রেমিট্যান্স কমেছে ১৮ শতাংশ

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) ৩২৩ কোটি ২১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৯৩ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।

সে হিসাবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ১৭.৮৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের সর্বশেষ মাস সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১০৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর আগের মাস আগস্টে এসেছিল ১১৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। আর জুলাই মাসে এসেছিল ১০০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে গত তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩২৩ কোটি ২১ লাখ ডলার।

দুই-তিন বছর থেকে রেমিট্যান্সে এমন ভাটার টান দেখা যাচ্ছে। গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এক হাজার ৪৯২ কোটি ৬২ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় দেশে আসে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। সেই হিসাবে গত অর্থবছরে ২.৫৫ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছে।

আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৬ শতাংশ। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমেছিল ১.৬৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে জনশক্তি রপ্তানি কম এবং ওই দেশগুলোতে তেলের দর পড়ে যাওয়ায় সার্বিকভাবে সেখানকার অবকাঠামো উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত অর্থবছরে এই সময়ে দুটি ঈদ ছিল, এ অর্থবছরে এই সময়ে একটি ঈদ পেয়েছে। যেটি গত অর্থবছরের চেয়ে এই অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স কম আসার একটি কারণ হতে পারে। তা ছাড়া ক্রমান্বয়ে ডলারের দর শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য দেশের মুদ্রা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মুদ্রার মান কম থাকায় ডলারে রূপান্তরের সময় কিছুটা কম দাম পাচ্ছে গ্রাহকরা। ওই অঞ্চল থেকেই রেমিট্যান্স বেশি আসে। তা ছাড়া আরো কিছু কারণ থাকতে পারে। ’ তিনি বলেন, ‘সব কিছু তো আমাদের হাতে থাকে না। বিশ্ববাজারে তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশের শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। যে কারণে তারা হয়তো কম রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। ’

সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। এ কারণে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে বাংলাদেশে তাদের স্বজনদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, এ কারণে রেমিট্যান্স কমছে কি না জানতে চাইলে শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘আমি এটি মনে করি না। কেননা যারা রেমিট্যান্স পাঠায় তাদের সঙ্গে এ বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমার মনে হয় না। ’

রেমিট্যান্সপ্রবাহে ক্রমাগতভাবে এমন ভাটার কারণ কী সে বিষয়ে কথা হয় অভিবাসন নিয়ে গবেষণা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একটি ইউনিটের সঙ্গে। দ্য রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট বা রামরুর সভাপতি তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘অনেক কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেমিট্যান্স কমছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো ২০১২ সালের পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অভিবাসন বা দেশের বাইরে যাওয়া লোকের সংখ্যা কমেছে। ২০১৫ সালে অভিবাসন কিছুটা বেড়েছে। তবে সেটিও আগের বছরের কম ছিল বলে পরের বছর বেশি দেখাচ্ছে। তা ছাড়া নতুন করে যারা যাচ্ছে তাদের রেমিট্যান্স পাঠাতে বছরখানেক লাগবে। এভাবে অভিবাসন কমলে এর একটি প্রভাব তো রেমিট্যান্সে পড়বেই। ’

তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, রেমিট্যান্স কমার আরো একটি বড় কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলের দেশগুলোর অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ কমছে। অনেক অভিবাসী হয়তো মূল কাজের পাশাপাশি অন্য একটি কাজ করত, যেটা এখন করতে পারছে না। সে কারণেও আগের তুলনায় রেমিট্যান্স অনেকটা কমে এসেছে। তা ছাড়া মালয়েশিয়াতেও দীর্ঘদিন ধরে মন্দা চলছে। যে কারণে সেখানেও এখন কাজ পাওয়া খুব একটা সহজসাধ্য নয়।

২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে প্রতিবছরই প্রবাসী আয় বাড়তে থাকে।


মন্তব্য