kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পরোক্ষ অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক

বাণিজ্য ডেস্ক   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পরোক্ষ অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক এখনো পরোক্ষভাবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। অথচ এ সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে অনেক আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠককে সামনে রেখে গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় একটি উন্নয়ন সংস্থা।

মানবাধিকার বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল (আইডিআই) প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব বিদ্যুৎ প্রকল্প জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে, বন উজাড়করণে ভূমিকা রাখছে, এমনকি সৃষ্ট রোগ থেকে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ঘটছে—এমন সব বিদ্যুৎ প্রকল্প বাংলাদেশ থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। যেখানে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থায়ন করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংক তাদের নীতিগত পরিবর্তন এনে জানায়, তারা এখন থেকে কয়লাভিত্তিক সব বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন কার্যত বন্ধ করে দেবে। তবে যেখানে বিকল্প টেকসই কোনো জ্বালানি নেই, কেবল সেখানেই সহায়তা রাখা হবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিশ্রুতির পরও এশিয়ায় কয়লাভিত্তিক ৪১ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি সহায়তা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) পরোক্ষ সহায়তা দিচ্ছে। এ নিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রশ্নের জবাবে আইএফসির মুখপাত্র ফ্রেডেরিক জোনস বলেন, ‘প্রতিবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ’

ফ্রেডেরিক জোনস আরো বলেন, ‘এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন যে আমরা কিভাবে সবুজ জ্বালানির জন্য একটি শক্তিশালী বাজার তৈরি করতে পারি এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা যাতে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ না করে সে জন্য সহায়তা করতে পারি। ’ জোনস জানান, ২০০৫ সাল থেকেই আইএফসি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু আইএফসির নীতিতে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।

আগামী ৭-৯ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক বৈঠক। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত থাকবেন ও বিশ্বের দারিদ্র্য দূরীকরণ নিয়ে আলোচনা করবেন। ওই বৈঠককে সামনে রেখেই এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

মানবাধিকারকর্মীরা কয়েক বছর ধরে তাঁদের প্রচারণায় তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করার কারণে আইএফসির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁদের মতে, এ সংস্থা অন্য তৃতীয় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করার কারণে সেখানে পরিবেশগত ক্ষতির জন্য তাদের সরাসরি দায়ী করা যায় না। অথচ আইএফসি সরাসরি অর্থায়ন করলে পরিবেশের বিষয়টি তারা নিশ্চিতের ব্যাপারে সতর্ক থাকত।

বিভিন্ন রেকর্ড বিশ্লেষণ করে আইডিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএফসি নতুন করে কয়লাভিত্তিক ৫৬ হাজার ১২৭ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পে পরোক্ষভাবে অর্থায়ন করছে। এর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশে স্থাপন করতে যাওয়া এক হাজার ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্প করা হচ্ছে ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের কাছে, যা নানা প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাসস্থল এবং ২০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার উৎস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাংক নিজেই এ প্রকল্পে সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছে। কারণ রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প হলে এতে বায়ু ও পানিদূষণ দুটোই ঘটবে। অথচ আইএফসির অর্থায়নে স্থানীয় ছয়টি ব্যাংক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এ প্রকল্পে সহায়তা দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে ফিলিপাইনের একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের উল্লেখ করে বলা হয়, যেখানে কয়লা পোড়ানোর কারণে বছরে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটছে। এমনকি ২০১৫ সালে সেখানে ৩০ জনেরও বেশি পরিবেশকর্মী নিহত হয়েছেন। আইএফসির অর্থায়নে স্থানীয় ব্যাংকগুলো ফিলিপাইনের অন্তত ২০টি নতুন কয়লা প্রকল্পে সহায়তা দিচ্ছে ২০১৩ সাল থেকে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন লানাও কসওয়াগান বিদ্যুৎ প্রকল্প। যেটি আগামী বছর থেকে কার্যক্রমে আসার কথা। এ প্রকল্পের ফলে সেখানে মত্স্যসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে।

আইডিআইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডেভিড প্রেড বলেন, আইএফসি যেখানে এ জাতীয় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চাচ্ছে, সেখানে স্থানীয় মাধ্যম ব্যাংকগুলো অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। যেখানে আইএফসির পরিবেশগত ও সামজিক শর্তগুলো মানছে না।

আইডিআই হচ্ছে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে এবং উন্নয়নে নৈতিকতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। আইডিআইকে এ প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছে ব্যাংক ইনফরমেশন সেন্টার এবং অ্যাকাউনটিবিলিটি কাউন্সেল। এএফপি।


মন্তব্য