kalerkantho

রবিবার । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৭ ফাল্গুন ১৪২৩। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঋণ-আমানতের সুদহারের ব্যবধান বেশি ২০ ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঋণ-আমানতের সুদহারের ব্যবধান বেশি ২০ ব্যাংকের

আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড নির্ধারিত সীমার ওপরে রয়েছে ২০ ব্যাংকের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড রয়েছে ব্র্যাক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় প্রতিটি ব্যাংককে স্প্রেড ৫ শতাংশীয় মাত্রার মধ্যে সীমিত রাখতে বলা আছে। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ আগস্ট মাসের প্রতিবেদনে ২০টি ব্যাংকের স্প্রেড নির্দেশিত সীমার বেশি থাকতে দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংকের স্প্রেড ৯.৪৭, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৭.২৫ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ৮.৯৫ শতাংশীয় মাত্রায় রয়েছে।

নির্দেশিত সীমার বেশি স্প্রেড থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংকের ৫.০৩, আইএফআইসির ৫.৮৪, পূবালী ব্যাংকের ৫.০১, উত্তরা ব্যাংকের ৫.৭৪, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৫.৩৮, ওয়ান ব্যাংকের ৫.৮৮, ট্রাস্ট ব্যাংকের ৫.৩৬, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৫.০৮ শতাংশীয় মাত্রায় রয়েছে।

এ ছাড়া সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) স্প্রেড ৫.১৮, মেঘনা ব্যাংকের ৫.২২, মিডল্যান্ডের ৫.২২, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৫.৯৩, এনআরবি ব্যাংকের ৫.৯১ শতাংশীয় মাত্রায় রয়েছে।

বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার স্প্রেড ৫.৯৭, সিটি ব্যাংক এনএর ৬.৩২, এইচএসবিসির ৬.০৬, উরি ব্যাংকের ৫.৬৪, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ৫.১২ শতাংশীয় মাত্রায় রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্প্রেড নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘স্প্রেড নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে আমরা বরাবরই তাগাদা দিয়ে আসছি। কারণ স্প্রেড যত কম হবে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য তত ভালো। যেসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী স্প্রেডের সীমা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বাজার অর্থনীতির কথা বলে কৃষি ও রপ্তানি ঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতের ঋণের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার নিজেরাই নির্ধারণের স্বাধীনতা পায়। তবে ঋণ ও আমানতের সুদের হারের মধ্যে একটি যৌক্তিক ব্যবধান রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক স্প্রেড নিম্নতম এক অঙ্কে সীমিত রাখার পরামর্শ দেয় ব্যাংকগুলোকে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে চিঠি দিয়ে স্প্রেড কমিয়ে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত মে মাসের প্রতিবেদন ধরে ২৩টি ব্যাংককে ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ ব্যাংককে ৩০ সেপ্টেম্বর, ছয় ব্যাংককে ৩০ অক্টোবর, এক ব্যাংককে ৩০ নভেম্বর ও দুটি ব্যাংককে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাকি ৯ ব্যাংককে চিঠি পাঠানো হয়েছে গত সপ্তাহে।

জানা গেছে, ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত টাকার প্রবাহ ও ঋণের চাহিদা কম থাকার কারণে আমানত সংগ্রহে আগ্রহ পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। এ কারণে আমানতের সুদের হার কমিয়ে মূল্যস্ফীতির নিচে নামিয়ে এনেছে। তবে আমানতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণের সুদের হারও কমাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। যে কারণে কিছু ব্যাংকের স্প্রেড অনেক বেশি।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিনিয়োগের মন্দা দূর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমিয়ে ঋণের চাহিদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার না কমানোর কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভায়ও সম্প্রতি ব্যাংক খাতের ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেসব ব্যাংক স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে নামাবে না সেসব ব্যাংকের মান অবনমন করা হবে। পর্ষদের এই সিদ্ধান্ত পেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।


মন্তব্য