kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ধান কাটার যন্ত্র ও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে মিলবে ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ধান কাটার যন্ত্র ও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে মিলবে ঋণ

কৃষি শ্রমিকের অভাবে দিন দিন ধান কাটা কঠিন হয়ে পড়ছে। সময়মতো ফসল তুলতে না পারায় বৃষ্টিতে পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ ধরনের লোকসানের হাত থেকে কৃষককে বাঁচাতে নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই কর্মসূচির আওতায় পুনরর্থায়ন সুবিধা নিয়ে পেডিকাটার বা ধান কাটার যন্ত্র কিনতে ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে ১০০ কোটি টাকার একটি পুনরর্থায়ন তহবিল রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। ২৪টি ব্যাংক এ তহবিলের টাকা নিয়ে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে থাকে। এবার এ তহবিল ব্যবহার করেই হাওরাঞ্চলের কৃষকদের পেডিকাটার কেনার জন্য ঋণ প্রদান করা হবে। কৃষক নিজে বা অন্য কেউ চাইলেই ঋণ নিয়ে পেডিকাটার কিনে তা ভাড়ায় কৃষকদের ধান কেটে দিতে পারবে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেসব অঞ্চলে ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়া হবে। হাওরাঞ্চল দিয়ে শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব অঞ্চলেই এই ঋণ প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া একই তহবিলের আওতায় বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরির জন্যও ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো পরিবার যদি তিনটি গরু পালন করে তবে সেই গরুর বিষ্ঠা দিয়ে ওই পরিবারের পক্ষে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট চালু করা সম্ভব। এখান থেকে যে পরিমাণ গ্যাস তৈরি হবে তা দিয়ে ওই পরিবারের নিয়মিত রান্নার সম্পূর্ণ কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি পাওয়া যাবে জৈবসার। সম্পূর্ণ পরিবেশবন্ধব এ প্রকল্পে ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুটি বিষয়ে ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলোকে একই সঙ্গে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দুটি বিষয়েই এবার বেশ গুরুত্ব দিয়ে ঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। কৃষকদের পেডিকাটার কেনার জন্য ঋণটা বেশ জরুরি। কারণ আমরা জানতে পেরেছি বর্ষার সময়ে হাওরাঞ্চলের মানুষগুলো শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারে না। ফলে অনেকের পাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য পেডিকাটারের ঋণ প্রডাক্টটি চালু করা হচ্ছে। আর বায়োগ্যাস প্লান্ট যেটা সেটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ মানুষ জমিতে এখন ইউরিয়া সার ব্যবহার করছে। যেটা উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের গুণাগুণ নষ্ট করে। কিন্তু জৈবসার হলে সেটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্যের গুণাগুণ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। আবার গ্যাস ব্যবহার করে আনায়াসেই রান্নার কাজ সেরে ফেলা যায়। ’

জানা গেছে, বায়োগ্যাস প্লান্টে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বা প্রয়োজনে তারও বেশি ঋণ প্রদান করা হবে। আর জামানতবিহীন এ ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়াটিও হবে বেশ সহজ। এখানে যেসব ব্যাংকঋণ প্রদান করবে তারাই আবার জৈবসার কিনে নেয় এমন কম্পানিদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবে কৃষকদের। ওই কম্পানিগুলো নিয়মিত বায়োগ্যাস প্লান্টের মালিকদের কাছ থেকে জৈবসার কিনে নেবে। যে টাকার জৈবসার বিক্রি করা হবে সে টাকার সমপরিমাণ কিস্তিই নেওয়া হবে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে। অর্থাৎ সার বিক্রি করেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারবে কৃষকরা। প্লান্টের সাইজ অনুযায়ী কী পরিমাণ জৈবসার বিক্রি করা সম্ভব তা থেকেই নির্ধারণ হবে ঋণের কিস্তি।


মন্তব্য