kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা না থাকায় দাম বাড়ছে না পোশাকের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তৈরি পোশাক খাতের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা না থাকায় বাংলাদেশের পোশাক পণ্যের দাম বাড়ছে না বলে মন্তব্য করেন ঢাকায় সফররত নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহায়তাবিষয়ক মন্ত্রী লিলিয়ান প্লাওমেন। তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের গার্মেন্ট পণ্যের দাম না বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গার্মেন্ট পণ্যের পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।

ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা যা করছেন, তা সঠিক নয়।

তিনি আরো বলেন, মুনাফা এক পক্ষে যাক এটা ঠিক নয়। টেকসই গার্মেন্ট খাত নিশ্চিত করতে যৌক্তিক মূল্যের জন্য পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। এ জন্য এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপের পরামর্শ দেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘গার্মেন্ট খাতের টেকসই সরবরাহ’ শীর্ষক দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে লিলিয়ান প্লাওমেন এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ ডাচ দূতাবাস ও বিজিএমইএ এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের গার্মেন্ট পণ্যের দর বাড়ানোর ইস্যুটি ঘুরেফিরেই আলোচনায় আসছে। গতকালও সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকার ও উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে এ দাবি তোলা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। দিনব্যাপী ওই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের গার্মেন্টসের ক্রেতা প্রতিনিধি, রপ্তানিকারক, কূটনীতিবিদ, শ্রমিক অধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডাচ মন্ত্রী বলেন, ক্রেতারা শেষ সময়ে অর্ডার বাতিল করা কিংবা স্বল্প সময়ে (লিড টাইম) অর্ডার সরবরাহ করতে বলে। এগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশে পোশাক খাতের সংস্কারে বড় বিনিয়োগ হয়েছে। তবে পোশাকের দর না বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। এ বিষয়ে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কথা হলেও দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই। আলোচনায় উঠে আসে সামপ্রতিক গুলশান হামলায় বাংলাদেশের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিনিয়োগ ইস্যুও। ডাচ মন্ত্রী তিনটি বিষয়ে নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ছিল ‘ওয়েক আপ কল’। এরপর অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরো কাজ করতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ রানা প্লাজা ধসের পর সরকারের নেওয়া নানামুখী উদ্যোগ উল্লেখ করে  বলেন, গত তিন বছরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মাত্র ৩৯টি। তবে কারখানা সংস্কারে উদ্যোক্তাদের বড় বিনিয়োগ করতে হয়েছে। কিন্তু রপ্তানিতে যৌক্তিক দর পাওয়া যাচ্ছে না।


মন্তব্য