kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রেলের উন্নয়নে ১৬০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে এডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের রেলের উন্নয়নে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও এডিবির মধ্যে একটি ঋণ চুক্তি সই হয়। তাতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্ম সচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং এডিবির পক্ষে ঢাকায় সংস্থাটির আবাসিক মিশনের অফিসার-ইনচার্জ ইউশিনোবু তাতেউয়াকি চুক্তিতে সই করেন। এ সময় সরকার ও এডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ইআরডির যুগ্ম সচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, এডিবির ২০ কোটি ডলার ঋণের আওতায় যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২৫০টি যাত্রীবাহী কোচ কেনা হবে। ১০টি ডিজেলচালিত লোকোমেটিভ (ইঞ্জিন) কেনা হবে। এ ছাড়া চারটি রিলিফ ক্রেন দুটি ট্রেন ওয়াশিং প্লান্ট এবং একটি সিমুলেটর সংগ্রহ করা হবে। তিনি বলেন, এসব যাত্রীবাহী কোচ কেনা হলে রেলে যাত্রী চলাচল বাড়বে। মানুষের হয়রানি ও ভোগান্তিও কমে আসবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘রেলওয়ে রোলিং স্টক’ শিরোনামের প্রকল্পের আওতায় এসব কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ৩০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিবি ঋণ দিচ্ছে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বাকি ৮০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে। প্রকল্পটি এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রেলওয়ের বহরে আধুনিক ইঞ্জিন ও কোচ যুক্ত হবে। যাত্রীবাহী কোচের যে অপ্রতুলতা আছে, সেটি কমে আসবে। এর মাধ্যমে ট্রেনের ভ্রমণ সময় কমে আসবে। যাত্রীদেরও ট্রেনের জন্য অপেক্ষার প্রহর কমে আসবে। রেলওয়ের লোকসান কমবে। রাজস্ব আদায় বাড়বে বলেও জানান ইআরডির কর্মকর্তারা।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এডিবির আবাসিক মিশনের অফিসার-ইনচার্জ ইউশিনোবু তাতেউয়াকি বলেন, রেলওয়ের বহরে নতুন করে আরো লোকোমেটিভ ও যাত্রীবাহী কোচ যুক্ত হলে রেলের সক্ষমতা আরো বাড়বে। এ প্রকল্পের আওতায় রেলওয়ের চালকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন চালকদের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে রেলের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-খুলনা রুটের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। তিনি আশা করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০২১ সাল নাগাদ ট্রেনে ১০ শতাংশ যাত্রী বাড়বে। এ ছাড়া মোট পরিবহনের মধ্যে রেলের অবদান ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।

ইআরডির সূত্র বলছে, এডিবির দেওয়া ঋণ পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। সুদের হার লন্ডন ইন্টার ব্যাংক রেটের (লাইবর) সঙ্গে ০.৫০ শতাংশ। লাইবর রেট এখন ১ শতাংশের নিচে আছে। এ ছাড়া ম্যাচুইরিটি প্রিমিয়াম দিতে হবে ১ শতাংশ। এডিবি বলছে, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ম্যানিলাভিত্তিক সংস্থাটির এ বছর ডিসেম্বরে ৫০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এ সংস্থার সদস্যসংখ্যা ৬৭।


মন্তব্য