kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস চীনা প্রতিনিধিদলের

বাংলাদেশে আসবে চীনা পর্যটক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশে আসবে চীনা পর্যটক

ঢাকায় সফররত চীনা প্রতিনিধিদলকে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন বিটিবির সিইও আখতারুজ জামান খান কবিরসহ অন্যরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

জনসংখ্যা আর আয়তনে বৃহত্তম দেশ হিসেবে চীনের পর্যটকের সংখ্যা যেকোনো একক দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালে ১২ কোটি চীনা পর্যটক বিদেশে ভ্রমণ করেছেন এবং তাঁরা ব্যয় করেছেন ১০ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০১৪ সালের তুলনায় যথাক্রমে ১২ শতাংশ ও ১৬.৭ শতাংশ বেশি।

এ ছাড়া বিদেশে ভ্রমণকারী মানুষের সংখ্যা ও ব্যয়ের দিক থেকে চীনা পর্যটকরা বিশ্বে প্রথম স্থান দখল করেছেন। এ অবস্থায় চীনের সঙ্গে পর্যটন খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সফরে আসা উচ্চপর্যায়ের একটি চীনা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটরদের এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বাংলাদেশে চীনা পর্যটক আগমন বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গত সোমবার রাতে বারিধারায় দি এসকোর্ট হোটেলে অনুষ্ঠিত দুই দেশের পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিজনেস টু বিজনেস পার্টনারশিপ ডায়ালগে এসব কথা বলেন চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এর আয়োজন করে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট (বিএফটিডি) এবং বাংলাদেশ ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন। এ সময় চীনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কুনমিং ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জের প্রধান এবং প্রতিনিধিদলের সমন্বয়কারী চেই ইয়ানইউ, চাইনিজ, পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান লিউ সিনলাং, উপপরিচালক বি ওয়েন জিয়াংসহ আরো অনেকে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএফটিডির নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশে ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল একরাম, সংগঠনের ৩৬ জন ট্যুর অপারেটর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ জামান খান কবির প্রমুখ। জানতে চাইলে রেজাউল একরাম বলেন, ‘চীনের বাজার আমরা প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত করতে যাচ্ছি, এটা দেশের জন্য একটি বড় সাফল্য। কুনমিংয়ে কোন সমুদ্রসৈকত না থাকায় তারা কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন্স এবং আমাদের বৌদ্ধ স্থাপনাগুলোতে পর্যটক পাঠানোর জন্য আগ্রহ দেখিয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আমরা আঞ্চলিক পর্যটনের ক্ষেত্রে চীনকে বড় বন্ধু হিসেবে পাব। ’

চেই ইয়ানইউ বলেন, ‘আমরা কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিন্স নিয়ে খুবই আগ্রহী। এ ছাড়া আমরা সুন্দরবনেও পর্যটক পাঠাতে চাই। একই সঙ্গে আমরা বাংলাদেশ থেকে কুনমিং স্টোন ফরেস্টসহ চীনের সেরা পর্যটন স্থাপনাগুলোতে বাংলাদেশি পর্যটক চাই। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা জোরদার হলে উভয় দেশই লাভবান হবে। ’

তিনি বলেন, এ দেশে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ স্থাপনা আছে, যেখানে চীনা পর্যটক আগমন বাড়তে পারে। এ ছাড়া আমরা আবহাওয়া আদান-প্রদানের মাধ্যমে পর্যটক বিনিময় করতে পারি।

আখতারুজ জামান খান কবির বলেন, চীন বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সহযোগী হওয়ার যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা আমাদের জন্য সুসংবাদ। চীনের কুনমিং থেকে আমাদের কক্সবাজারের আকাশপথের দূরত্ব মাত্র ৫৫ মিনিটের উড্ডয়ন, যা ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্বের প্রায় সমান। ওখানে সমুদ্রসৈকত না থাকায় আমরা প্রচুর পর্যটক কক্সবাজারে আনতে পারি। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।


মন্তব্য