kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে ভ্যাট

ফারজানা লাবনী   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে ভ্যাট

আগামী অর্থবছর থেকে পুরনো পদ্ধতি ছেড়ে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে (অনলাইনে) ভ্যাট বা মূসক আদায় করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ বিষয়ে প্রস্তুতি শেষের পথে বলে জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

নতুন এ পদ্ধতিতে পুরনো ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর বাতিল করে প্রত্যেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভ্যাট সংক্রান্ত কোনো সমস্যার সমাধানে বা পরামর্শের জন্য মূসক কমিশনারেটে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। ১৬৫৫৫ নম্বরে ফোন করে ভ্যাট সংক্রান্ত সব তথ্য জানা যাবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, অনলাইনে ভ্যাট আদায় করা হবে। এনবিআরের প্রস্তুতি শেষের পথে। এতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি থাকবে না। ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ারও সুযোগ থাকবে না। হিসাব কষে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নতুন এ পদ্ধতিতে ভ্যাট আদায় কয়েক গুণ বেশি হবে। অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

বর্তমানে একজন ব্যবসায়ীর একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে প্রত্যেকটির জন্য পৃথক ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ করতে হয়। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক নম্বরে ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা কম্পানির যদি বিভিন্ন স্থানে একাধিক ইউনিট বা আউটলেট থাকে, তবে তাদের প্রতিটির জন্য পৃথক মূসক নিবন্ধন গ্রহণের প্রয়োজন হয়। অনলাইনে ভ্যাট আদায়ে একজন ব্যবসায়ীর একাধিক প্রতিষ্ঠানের বা কম্পানির বিভিন্ন ইউনিটের জন্য একটি ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ করতে হবে। তবে সীমিত কিছু ক্ষেত্রে এ নিয়ম শিথিল করা হবে। অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন বাতিলকরণ সহজ করা হয়েছে। একক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবসা অঙ্গন পরিবর্তনে করদাতাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

এনবিআর সূত্র জানায়, বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত লাখ। বহু পুরনো এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র দুই হাজার প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে এনবিআরের কাছে। তাই সম্পূর্ণ নতুনভাবে ভ্যাট নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। চলতি বছরের শুরুতে ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়। যা শেষ হবে আগামী বছরের ৩০ জুন।

বর্তমানে ব্যবসায়ীকে বা তার প্রতিনিধিকে ভ্যাট কমিশনারেটে উপস্থিত হয়ে রিটার্ন ফরম পূরণ করে ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। কী পরিমাণ পণ্য, কত দামে বিক্রি করা হয়েছে, কত রেয়াত পেয়েছে—সব হিসাব কষে ফরমে উল্লেখ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীকে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সংক্রান্ত হিসাব করতে এক বা একাধিক আইনজীবীকে ফি দিয়ে নিয়োগ করতে হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সততার সঙ্গে ভ্যাট পরিশোধে এনবিআর দপ্তরে উপস্থিত হলে অনেক সময় অসাধু এনবিআর কর্মকর্তারা অনৈতিক সুবিধা নিতে হয়রানি করে। আবার এনবিআর কর্মকর্তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে যাচাই-বাছাইয়ের নামে উপস্থিত হয়েও অনৈতিক সুবিধা দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে বাধ্য হয়ে তা পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা কেনাবেচা, পণ্যের পরিমাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েও ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে থাকে।

এনবিআর কর্মকর্তারা তদন্তে প্রকৃত হিসাবে ভ্যাট দাবি করলে তা পরিশোধ না করে অসাধু ব্যবসায়ীরা মামলা করে দেয়। এসব মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যবসায়ী হিসাব মতো ভ্যাট পরিশোধ না করে পুরো বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখে।

অনলাইনে ভ্যাট পরিশোধে ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিধান করা হয়েছে। যা নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ সময়সীমা ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অনলাইনে ভ্যাট পরিশোধে ব্যবসায়ী বা ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিদের এনবিআর দপ্তরে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নতুন নিয়মে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী যে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করে সেই ব্যাংক এবং এনবিআরের তথ্য ভাণ্ডার ও কোষাগারের সঙ্গে অনলাইনে লেনদেন এবং তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে। এতে কী পরিমাণ পণ্য বিক্রি হবে তার হিসাব এনবিআরের তথ্য ভাণ্ডারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যাংক থেকে হিসাব কষে এনবিআরের কোষাগারে ভ্যাট জমা হবে। এখানে এনবিআর কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের হিসাব কমবেশি করার সুযোগ থাকছে না। এভাবে অনলাইনে ট্রেজারি চালানের সনাতনী প্রথার বদলে মূসক পরিশোধের ব্যবস্থা থাকছে।

ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক রেজাউল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন এ পদ্ধতিতে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে। ভ্যাট দপ্তরে কোনো ব্যবসায়ী এলে জরিমানা করা হবে। কল সেন্টারের বিশেষ নম্বরে ফোন দিয়ে সব তথ্য জানতে পারবে। যেসব ব্যবসায়ী কম্পিউটার চালাতে পারবে না তাদের জন্য কল সেন্টারের সঙ্গে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার করা হবে। এখানে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে। ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সংশ্লিষ্টরা ভ্যাটের পরিমাণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। ভ্যাট অব্যাহতির ক্ষমতাও তাঁদের থাকবে না।

অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উেস কর্তিত মূসক রেয়াত বা সমন্বয়ের সুযোগ আছে। এখানে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পণ্য খালাসের আগেই চলতি হিসাবে অগ্রিম টাকা জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। অনলাইনে অধিক পরিশোধিত মূসক ভবিষ্যতে প্রদেয় উৎপাদন করের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।


মন্তব্য