kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম ইপিজেড যুক্ত হচ্ছে আউটার রিং রোডের সঙ্গে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রাম ইপিজেড যুক্ত হচ্ছে আউটার রিং রোডের সঙ্গে

রিং রোডে সংযুুক্তির জন্য ৩০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা দেবে বেপজা

বঙ্গোপসাগর পারে নির্মাণাধীন আউটার রিং রোডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম ইপিজেড। নগরের দক্ষিণ কাট্টলী থেকে পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কটির একটি অংশ চট্টগ্রাম ইপিজেডের ধার ঘেঁষে যাবে।

এই সড়কে উঠতে ইতিমধ্যে রিং রোড বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্তৃপক্ষ (বেপজা) দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় প্রাথমিকভাবে রাজি হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হবে। আর এই সংযুক্তির কাজ শেষ হলে শহরের ভেতরের সড়ক দিয়ে আর ইপিজেডমুখী কোনো ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান কিংবা লরি যাতায়াত করবে না। ফলে যানজটে ভারাক্রান্ত চট্টগ্রাম বিমানবন্দরমুখী একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অনেকটাই ভারমুক্ত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

সিডিএ সূত্র জানায়, রিং রোডে সংযুুক্তির জন্য সিডিএকে নির্মাণ খরচ বাবদ ৩০ কোটি টাকা এবং পরামর্শক ব্যয় বাবদ ৪৬ লাখ টাকা দিতে সম্মত হয়েছে বেপজা। এ জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ফি বাবদ ৪৬ লাখ টাকা জমা দেওয়ার জন্য গত বুধবার চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ফি জমা দেওয়ার পর সিডিএ ও ইপিজেডের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইতিমধ্যে সমঝোতা চুক্তির খসড়াও তৈরি হয়ে গেছে।

বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিং রোডের সঙ্গে সিইপিজেডের সংযোগ সড়কের ব্যাপারে সিডিএর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সিডিএ প্রাথমিকভাবে সম্মতি দিয়েছে। তবে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। রিং রোডের সঙ্গে এই সংযোগ চট্টগ্রামের জনস্বার্থেই দরকার। রিং রোড ব্যবহারের ফলে চট্টগ্রামের বিমানবন্দর রোডের ওপর গাড়ির চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। ফলে ইপিজেড-সংলগ্ন এলাকায় নিত্যদিনের ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম তাও কমে যাবে। ’

নাজমা বিনতে আলমগীর আরো বলেন, ‘এই গেট দিয়ে শুধু ইপিজেডের পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করবে। সাধারণ মানুষ এই গেট ব্যবহার করতে পারবে না। সিডিএ বরাদ্দ দিলে আমরা নিজেদের টাকায় গেট ও রিং রোডের সঙ্গে সংযোগ সড়কটি করে নেব। সিইপিজেডের প্রধান ফটক দিয়ে মালামালবাহী কোন গাড়ি যাতায়াত করবে না। সে সময় ইপিজেড কাস্টমস অফিসও নতুন সংযুক্ত গেইটে চলে আসবে। ’

জানতে চাইলে সিইপিজেডের একজন কর্মকর্তা জানান, ইপিজেডে যাতায়াতকারী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান কিংবা লরিগুলো প্রধান গেট দিয়ে চলাচল করবে না, আউটার রিং রোড দিয়ে প্রবেশ ও বের হয়ে যাবে। এতে শহরের দিকের রাস্তায় যানজট কমে আসবে।

আউটার রিং রোড প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘রিং রোড চট্টগ্রামকে বদলে দেবে। আর চট্টগ্রাম ইপিজেডের পাশ দিয়ে এই রোডটি নির্মিত হলেও শুরুতে ইপিজেডের সঙ্গে এই রোডের কোনো সংযুক্তি ছিল না। ইপিজেড কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন তা যুক্ত করা হচ্ছে। ’

কাজী হাসান বিন শামস আরো বলেন, ‘রিং রোডের সঙ্গে ইপিজেডের সংযুক্তি দেওয়ার বিষয়টি ডিজাইন করবে রিং রোডের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্ম্যাক। সে জন্য ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ৪৬ লাখ টাকা দেবে। আর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নকশা অনুযায়ী তা নির্মাণ করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। সেই টাকাও ইপিজেড কর্তৃপক্ষ দেবে। ’

দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট থেকে পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি পর্যন্ত সাগর পারের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় চলছে আউটার রিং রোড কাম উপকূলীয় বেড়িবাঁধ মজবুতকরণ প্রকল্প। রিং রোড নির্মাণের এক হাজার ৪১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার মধ্যে ৬৯৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) দেবে ৭১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হলে কক্সবাজারমুখী গাড়িগুলো সহজেই পতেঙ্গার নেভাল একাডেমির পাশ দিয়ে নির্মিত হতে যাওয়া টানেল দিয়ে কর্ণফুলীর ওপারে চলে যেতে পারবে। আন্তজেলার গাড়ি থেকে নগর মুক্ত থাকবে বলে নগর অনেকটা যানজটমুক্ত হবে।

সিইপিজেডের প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের পরিচালক এবং জিন্স-২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিং রোডের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সিইপিজেড কর্তৃপক্ষের একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এতে বিমানবন্দর রোডে কিছুটা হলেও ট্রাফিক জ্যাম কমবে। তবে রিং রোড হয়ে ইপিজেডে যাতায়াতকারী কাভার্ড ভ্যান কিংবা লরিগুলো কোন সড়ক ব্যবহার করে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে প্রবেশ করবে তা আমরা এখনোও জানি না। রিং রোডে যদি সেই অপশন থাকে তাহলে আমদানি-রপ্তানিমুখী পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীদের সময় অপচয়ও কমে যাবে। ’

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর অভিমুখী সড়কের সঙ্গে আউটার রিং রোডের সংযোগ থাকবে জানিয়ে বলেন, ‘সাগরিকা এলাকায় যেখানে রিং রোড শেষ হবে সেখান দিয়েই ইউ লুপের মাধ্যমে একটি বন্দরমুখী টোল রোডের সঙ্গে যুক্ত হবে রিং রোড। রিং রোডের আরেকটি অংশ সাগরিকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে মিশে যাবে। ’


মন্তব্য