kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাইতিতে বিনিয়োগ করতে চায় হা-মীম গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের হা-মীম গ্রুপ হাইতিতে তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রুপটির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে হাইতির জাতীয় শিল্প পার্ক কর্তৃপক্ষের (এসওএসএপিআই) একটি প্রতিনিধিদল।

গতকাল হা-মীম কর্ণধারদের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদও বৈঠক করেছেন। এ সময় নিজ দেশে বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ চেয়েছে হাইতি। দেশটির পোশাক খাতে ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন বিনিয়োগ শুরু করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা রয়েছে হাইতির। তাই চীন ও কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ হাইতিতে বিনিয়োগ করছে তৈরি পোশাক খাতে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও সেখানে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠককালে হাইতির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্বে ছিলেন এসওএসএপিআইর মহাপরিচালক কার্ল ফ্রেডেরিক ফিলিপ। প্রতিনিধিদলের অন্য দুই সদস্য এসওএসএপিআইর পরামর্শক জোসেফ পিয়্যরে ডিলেটর, হাইতি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এডিআইএস) সভাপতি জর্জ বারাও সাসিন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ এবং গ্রুপের পরামর্শক এস জে এম শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, হাইতিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী দক্ষতার ও সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। বেশ কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। জাপান, চীন ও ভারতসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ করছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হা-মীম গ্রুপ হাইতিতে তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাইতির তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে পারে। এ খাতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ লাভজনক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ গত অর্থবছরে হাইতিতে ১৫ লাখ ডলার মূল্যের তামাক ও তামাকজাত পণ্য, প্লাস্টিক ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করেছে। বৈঠকে এ কে আজাদ বলেন, হাইতি, কেনিয়া, তানজানিয়া ও ইথিওপিয়ায় বিনিয়োগ করে তৈরি পোশাক উৎপাদন করলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কেনিয়ায় শ্রমিকের ব্যয় অনেক বেশি। তানজানিয়া ও ইথিওপিয়ায় অবকাঠামো ঘাটতি রয়েছে। তবে হাইতিতে বিনিয়োগ করা গেলে সবচেয়ে বেশি লাভ করা সম্ভব হবে। দেশটির শ্রম ব্যয় কম এবং সে দেশের সরকার অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

সফররত হাইতির ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের পোশাক খাতসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে মুগ্ধ বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বকশী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাঁরা হাইতির শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও দক্ষতার প্রশংসা করেন।

 


মন্তব্য