kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হানজিন সংকটের ঢেউ বাংলাদেশে

পণ্যমূল্য পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় আমদানিকারকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম কনটেইনার পরিবহন প্রতিষ্ঠান হানজিন শিপিং দেনার দায়ে দেউলিয়া হওয়ার মুখে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই প্রতিষ্ঠানটির পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়তে দিচ্ছে না।

খালাস হচ্ছে না আমদানিকারকদের আনা পণ্য। ফলে পণ্য মূল্য পরিশোধ করা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের আমদানিকারকরাও।

এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। ব্যাংকটির গ্রাহক মেসার্স জাহান ইন্টারন্যাশনাল নেদারল্যান্ডসের এক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২৭ হাজার ৬০০ ডলারের ইস্পাত তৈরির কাঁচামাল আমদানি করেছে। কিন্তু হানজিন শিপিংয়ের জাহাজ বন্ধরে ভিড়তে না পারায় পণ্য খালাস করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তার পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে চাপ দিচ্ছে।

মেসার্স জাহান ইন্টারন্যাশনালের আশঙ্কা, পণ্যের মূল্য পরিশোধ করে দেওয়ার পর যদি পণ্য খালাস করা না যায় তবে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি। এই আশঙ্কা থেকে ওই পার্টি ব্যাংকের কাছে দেরিতে পণ্যমূল্য পরিশোধের সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছে। প্রিমিয়ার ব্যাংক আবার ওই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পরামর্শও চেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী পণ্য জাহাজে তুলে দিয়েছে, সেহেতু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এটা আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ৫৫০ কোটি ডলার দেনার চাপে পড়েছে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম কনটেইনার অপারেটর হানজিন শিপিং কম্পানি। দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম এ নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠানটির বহরে রয়েছে ১৪০টি বাল্ক ও কনটেইনারবাহী জাহাজ। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৬০টি পণ্য পরিবহন লাইন পরিচালনা করছে হানজিন।

হানজিন শিপিং কম্পানির ঋণদাতাদের অন্যতম কোরিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেডিবি)। দেনায় ভারাক্রান্ত প্রতিষ্ঠানটিকে সমপ্রতি ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ওই ব্যাংকটি। নতুন করে ঋণ জুগিয়ে হানজিনের সাড়ে ৫০০ কোটি ডলার দেনা মেটানো সম্ভব নয় বলে কেডিবি মন্তব্য করেছে।

ঋণ না পেয়ে সম্প্রতি হানজিন বিভিন্ন দেশের আদালতে দেউলিয়াত্বের হাত থেকে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন জানাচ্ছে।

হানজিনের দেউলিয়াত্বের খবর প্রকাশের পর থেকে বিভিন্ন দেশের বন্দর ও টার্মিনাল অপারেটররা কম্পানির জাহাজ ও কনটেইনার খালাসে আপত্তি জানাচ্ছে। প্রদত্ত বার্থিং ও সেবার মূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে হানজিনকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

তবে দেউলিয়াত্বের আবেদন করলেও এখন তারা ফের ব্যবসা চাঙ্গা করতে চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। এরই অংশ হিসেবে ঋণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে চাচ্ছে কম্পানিটি। এ জন্য হানজিনের শেয়ারহোল্ডার কম্পানি কোরিয়ান এয়ারলাইনসের কাছে তারা ঋণ চেয়েছে। সে হিসেবে কোরিয়ান এয়ারলাইনস প্রায় ছয় হাজার কোটি ওন (কোরিয়ান মুদ্রা) ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

ঋণ পাওয়ার সংবাদ আসার পরই গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় হানজিনের শেয়ারের দাম ২৮ শতাংশ বেড়ে যায়। দেউলিয়াত্বের আবেদন করার সময়ই কম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, কম্পানিকে পুনরায় চালু করতে হলে অন্তত ১০ হাজার কোটি ওন প্রয়োজন। ছয় হাজার কোটি ওন ঋণ পাওয়ার কথা জানার পর কম্পানির চেয়ারম্যান তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে চার হাজার কোটি ওন কম্পানিতে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।


মন্তব্য