kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্কে বাধা যুক্তরাষ্ট্র

আবুল কাশেম   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্কে বাধা যুক্তরাষ্ট্র

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হলেও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। মূলত রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে এ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারছে না বাংলাদেশ।

রাশিয়ার সঙ্গে করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক চালু করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চালু থাকা বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর করেসপনডেন্ট হিসাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

গত জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গোলিয়া সফর করেন। সফরকালে ১৫ জুলাই মঙ্গোলিয়ার উলান বাটোরে আসেমের সাইডলাইনে দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন তাঁরা। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গত ১১ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তার ফিরতি জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানাল, আপাতত রাশিয়ার সঙ্গে এ সম্পর্ক গড়া সম্ভব নয়। রাশিয়ার সঙ্গে করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক না থাকায় বর্তমানে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করছে বাংলাদেশ।

করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং হলো এমন এক ধরনের ব্যাংকিং, যেখানে এক দেশের ব্যাংক ওই দেশে অন্য দেশের ব্যাংকের হয়ে বিভিন্ন কাজ করে বা সেবা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর দেশগুলোর ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের এ সম্পর্ক রয়েছে। আর ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাশিয়ার ব্যাংকগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে রাশিয়ার ব্যাংকগুলোর সঙ্গে করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মাসুদ বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, ‘রাশিয়ার সঙ্গে করেসডনডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের তত্পরতার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে। তবে রাশিয়ার প্রথম সারির ব্যাংকগুলোর ওপর ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল (ওএফএসি)’ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে ওই ব্যাংকগুলোর সঙ্গে করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাচ্ছে না। কেননা, সে ক্ষেত্রে ইইউ সদস্যভুক্ত দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর বর্তমানে চালু করেসপনডেন্ট হিসাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোর আশঙ্কা রয়েছে। ’

বাংলাদেশ ব্যাংক আরো বলেছে, ‘বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা হলেও রাশিয়ার ব্যাংকগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির সঙ্গে ব্যাংকিং সুবিধা সৃষ্টির বিষয়টি শুধু এ দুই দেশের আন্তরিকতার ওপর নির্ভরশীল নয়। তা ছাড়া রাশিয়ার মুদ্রা রুবল সহজে বিনিময়যোগ্য নয় বিধায় টাকা ও রাশিয়ান রুবলের মধ্যে সরাসরি বিনিময় হার নির্ধারণ সম্ভব নয়। ’

রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। রাশিয়ান কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সামষ্টিক বাণিজ্য আরো অনেক বেশি। করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন না হলেও রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেনে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে সুইফটের ‘রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন-আরএমএ’ সেবার মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন তৃতীয় একটি পক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

বর্তমানে রাশিয়া ও রাশিয়ান কমনওয়েলথভুক্ত ৯টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর প্রায় ৫০টি আরএমএ রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের জন্য গত ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংক ও অথরাইজড ডিলার ফোরামের সভায় এডি ব্যাংকগুলোকে রাশিয়ার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে অধিকসংখ্যক আরএমএ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, যেকোনো অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক যেকোনো বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে অবাধ বিনিময়যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। এ ধরনের সম্পর্ক স্থাপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণের দরকার হয় না। করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে বিভিন্ন ফোরামে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা বাস্তবিক কারণে রাশিয়া ও রাশিয়ান কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর কোনো ব্যাংকের সঙ্গে নস্ট্রো হিসাব চালু করতে সক্ষম হয়নি।


মন্তব্য