kalerkantho


আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

আবারও চালু হচ্ছে চিলমারী নৌবন্দর

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চিলমারী নৌবন্দর আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একসময় পাটের ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল কুড়িগ্রামের এই বন্দরটি। ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই বন্দরে পাট বেচাকেনার জন্য দেশি-বিদেশি জাহাজ আসত। ফলে ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় মুখরিত থাকত দিন-রাত। আজ নৌ বন্দরটিকে পুনঃচালুকরণের লক্ষ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী বন্দরের পাটের ব্যবসা শুরু হয় ত্রিশের দশকে। সীমান্তের ওপারে আসামের সঙ্গে তখন ফেরি যোগাযোগ ছিল। কাস্টম বিভাগও তাদের দপ্তর পরিচালনা করত। জুট ট্রেডিং করপোরেশনসহ ৩০টি পাটকল ও কম্পানি ব্যবসা খুলে বসে। স্থাপন করে বিশাল বিশাল পাট গুদাম। পাট প্রক্রিয়াজাত ও বেল তৈরির মেশিন স্থাপন করা হয়। পাট ক্রয়, বাছাই ও বেল তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিল ৯০০ শ্রমিক। এর বাইরে শত শত ব্যাপারী, কৃষক ও ফড়িয়া আসত নিয়মিত। এখানকার পাট বিদেশেও রপ্তানি হতো।

পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সালে বন্দর এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র হয়ে ওঠে। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বন্দর এলাকাটি। লুটপাট হয় বেশ কয়েকটি পাটকলের মালামাল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিলীন হওয়া বন্দরের তিন কিলোমিটার দূরে রমনা বাজারে কয়েকটি গুদাম ও অফিস নির্মাণ করে আবারও সীমিত আকারে পাটের ব্যবসা শুরু হয়। ১৯৭২ সালে জেটিসি, জিএমসি, লাকি জুট মিলস, বাংলাদেশ জুট মিলস, লতিফ বাওয়ানী, পাল কম্পানি, হক কম্পানি, জুট ইন্টারন্যাশনাল এবং বাওয়া জুট মিলসের ব্যবসা জমে ওঠে। একপর্যায়ে বেসরকারি কম্পানির ওপর পাট রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, সীমিত ব্যাংক ঋণ সুবিধাসহ নানা কারণে ধীরে ধীরে চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী পাটের কারবার বন্ধ হয়ে যায়। রমনা বাজারের একাংশও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়।

গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিলমারীতে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নৌবন্দরটি চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। শিগগিরই ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদের নাব্যতা বাড়িয়ে বন্দরের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন।


মন্তব্য