kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে না

রিজার্ভ চুরির পুরো অর্থই ফেরত পাওয়ার আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রিজার্ভ চুরির পুরো অর্থই ফেরত পাওয়ার আশা

রিজার্ভ চুরির অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেও। তবে ফিলিপাইনের আদালতের রায়ে দেড় কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার পর এখন বাকি অর্থ আদায় হবে বলে আশাবাদী তিনি।

ফিলিপাইনের নতুন প্রেসিডেন্ট রুদ্রিগো দুতার্তের একটি কথায় বাকি ছয় কোটি ৬০ লাখ ডলার আদায় হবে বলে আশা করছেন মুহিত। আগামী চার-মাস মাসের মধ্যে তা ফেরত পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

খোয়া যাওয়া রিজার্ভের বাকি অর্থ উদ্ধার প্রসঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এদিক দিয়ে ভালো যে আমি প্রথম দিকে ভেবেছিলাম উদ্ধার হবেটবে না। সেখানে কৃতিত্ব দিতে হয় ফিলিপাইনের সরকারকে। তাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বলেছেন, টাকা পরিশোধ ছাড়া আমি বাংলাদেশে যাব না। আমাদের রাষ্ট্রদূত তাঁকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ’

গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে আট কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংক হয়ে দেশটির জুয়ার আসরে। বাকি দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফিলিপাইনের জুয়া ব্যবসায়ী কিম উং দেড় কোটি ডলার ফেরত দিয়েছেন, যা আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফেরত পাচ্ছে।

ফিলিপাইন থেকে বাকি টাকা ফেরত পেতে বেশি দিন লাগবে না—উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। ’

এদিকে রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করবেন বলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। প্রতিবেদনটি এখন প্রকাশ করা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না জানিয়ে গতকাল তিনি বলেছেন, এটি প্রকাশে বেশ দেরি হবে। এর আগে মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সচিবালয়ে গিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ফিলিপাইনের আদালতে চলা মামলা নিষ্পত্তি হয়ে অর্থ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তিনি প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করতে অর্থমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কারণ সম্পর্কে গতকাল অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ঘোষণা মতে তদন্ত প্রতিবেদন কাল (বৃহস্পতিবার) প্রকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু কাল হবে না, বেশ দেরি হবে। দেরি হওয়ার কারণটাও বলতে পারি যে, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ফিলিপাইন ও আমাদের মধ্যে অনেক আলোচনা চলছে। আমরা সেখানে মামলা-মোকদ্দমাও করেছি। আরো নানা কিছু আছে। প্রতিবেদন প্রকাশ হয়ে গেলে এ ক্ষেত্রে ঝামেলা হতে পারে। এ জন্য এখন প্রতিবেদনটি বের করছি না। পরে প্রকাশ করব, তবে তারিখটা বলতে পারছি না। দেরি হলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। ’

চুরি হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হচ্ছে না কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘ইয়েস, ওখানে কেসটেস করেছি আমরা, দাবিটাবি করেছি। আমি তো আজকে শুনলাম আরো অনেক টাকা (চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ) পাইপলাইনে আছে। বর্তমান আশা হচ্ছে, আমরা প্রায় শতভাগ অর্থই উদ্ধার করতে পারব। এ মুহূর্তে বোধ হয় হিসাব-নিকাশ ও বিভিন্ন আলোচনা চলছে। তাতে প্রায় আট কোটি ডলারের মতো উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ইটস এ গুড নিউজ। ’

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ কিভাবে দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা যায়, তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবিরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, ‘এই বিপুল রিজার্ভ কিভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ধারণা দিয়েছে। আমি নিজেও একটা উপায় বের করার চেষ্টা করছি। আমার নিজস্ব ধারণা হচ্ছে, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে রিজার্ভ থেকে আমি ঋণ নেব। তবে সেটা অনেক কম সুদে নয়। তবে এর একটা উপায় (মেকানিজম) বের করতে হবে। এটা আমার নিজস্ব চিন্তার বিষয়। আমাদের যে সম্পদ (রিজার্ভ) আছে, তা আমাদের ব্যবহার করতে হবে। ’


মন্তব্য