kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গ্রাহকদের প্রতিদিন লেনদেন প্রতিবেদন পাঠাবে সুইফট

বাণিজ্য ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গ্রাহকদের প্রতিদিন লেনদেন প্রতিবেদন পাঠাবে সুইফট

গ্রাহকদের কাছে প্রতিদিন লেনদেন প্রতিবেদন পাঠাবে আন্তব্যাংক ম্যাসেজিং নেটওয়ার্ক সুইফট। এতে লেনদেন নির্দেশনায় অননুমোদিত কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুততার সঙ্গে শনাক্ত করতে পারবে গ্রাহক ব্যাংকগুলো।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুইফট ম্যাসেজিং সিস্টেমে ঢুকে হ্যাকাররা এমন অননুমোদিত নির্দেশনার মাধ্যমেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে।

সুইফট ম্যাসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিদিন গ্রাহক ব্যাংকগুলো ট্রিলিয়ন ডলার লেনদেন করে। অত্যাধুনিক এ লেনদেন পদ্ধতি নিয়ে এত দিন সুইফট ও গ্রাহকরা নিশ্চিন্ত থাকলেও তাদের আত্মবিশ্বাসে প্রথম চিড় ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মধ্য দিয়ে। এরপরই সুইফট নিজস্ব নেটওয়ার্কে হ্যাকিং ঠেকাতে সফটওয়্যার আপডেট করাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সুইফট জানায়, আগামী ডিসেম্বর থেকে গ্রাহকদের ‘দৈনিক যাচাইকরণ প্রতিবেদন’ (ডেইলি ভেলিডেশন রিপোর্টস) পাঠাবে প্রতিষ্ঠানটি। এতে গ্রাহক সুইফট টার্মিনাল থেকে অন্য ব্যাংকের কাছে যেসব ম্যাসেজ পাঠিয়েছে সেসব তথ্য থাকবে। যা দেখে ব্যাংক অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্য বা নির্দেশনা চিহ্নিত করতে পারবে। সুইফটের প্রতিবেদনে একটি ‘ঝুঁকি’ প্রতিবেদনও থাকবে। এতে গ্রাহকের অর্থ স্থানান্তর নির্দেশনায় স্বাভাবিক রীতির বাইরে কোনো বিচ্যুতি ঘটেছে কি না তাও উল্লেখ থাকবে।

বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির পাশাপাশি গত বছর কলম্বোর একটি ব্যাংক থেকে হ্যাকাররা ১২ মিলিয়ন ডলার চুরির পর সুইফট টার্মিনালে তাদের পরিচয় গোপন রাখতে পেরেছিল রেকর্ড মুছে দেওয়ার মাধ্যমে। উভয় ঘটনাতেই চুরির বিষয়টি আবিষ্কার করতে কয়েক দিন লেগেছিল। তাই গ্রাহকদের নতুন এ প্রতিবেদন সুইফট স্বাভাবিক মাধ্যমে না পাঠিয়ে আলাদা একটি চ্যানেলে পাঠাবে। এতে হ্যাকাররা সুইফট নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারলেও এসব তথ্য পাবে না।

ব্রাসেলসভিত্তিক আর্থিক নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যানশিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) এমন একটি ম্যাসেজিং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন ট্রিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়। সুইফটের নিয়ন্ত্রণ অতীতে কিংবা বর্তমানে সিটিব্যাংক, জেপি মরগ্যান, ডাতচে ব্যাংক এবং বিএনপি পরিবাসের মতো পশ্চিমা বড় বড় ব্যাংকগুলোর হাতেই রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোই এক দশক আগে সুইফট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।

সুইফটের সাবেক অনেক কর্মকর্তা ও গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, এটি সাম্প্রতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় অনেক ধীরে সক্রিয় হয়েছে। সাবেক পরিচালকরা বলেন, সুইফট নিয়ে বর্তমানে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তার কারণ হচ্ছে এ সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণকারী বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা যেকোনো হ্যাকিং মোকাবিলার জন্য অনেক শক্তিশালী। ফলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিয়ে সুইফটকে ভাবতে হয়নি। কিন্তু ১৯৯০ সালের পর থেকে উদীয়মান বিশ্বের অনেক ছোট ছোট ব্যাংক সুইফটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যাদের অনেকেরই কম্পিউটার নিরাপত্তায় দুর্বলতা রয়েছে। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০ হাজারেরও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সুইফটের সঙ্গে যুক্ত।

সুইফটের বিরুদ্ধে আসা বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করলেও প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে হ্যাকারদের মোকাবিলায় গ্রাহক ব্যাংকগুলোকে রক্ষায়। রয়টার্স।


মন্তব্য