kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘পোশাক শ্রমিকদের মজুরি সন্তোষজনক নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। শ্রমিকদের মজুরি আরো বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকরা যে মজুরি পায়, তা এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে।

তবে এ জন্য শ্রমিকদেরও উত্পাদনশীলতা আরো বাড়াতে হবে। শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেলে উত্পাদনশীলতাও দ্বিগুণ হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে উদ্যোক্তারা চায় না শ্রমিকদের উত্পাদনশীলতা বাড়ুক। কারণ এটাকে তারা হুমকি বলে মনে করে।   

‘ভালনারেবল অ্যাম্পাওয়ারমেন্ট : ক্যাপাবিলিটিস অ্যান্ড ভালনারেবিলিটিস অব ফিমেল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ শীষর্ক গবেষণা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিজস্ব সম্মেলন কক্ষে এই প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে।

শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এ জন্য তাদের উত্পাদনশীলতার ওপর জোর দিতে হবে। বর্তমানে সামান্য প্রশিক্ষণ দিলেই দেখা গেছে তাদের উত্পাদনশীলতা ১০ থেকে ১২ শতাংশ বেড়ে যায়। আর একটু ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তাদের উত্পাদনশীলতা প্রায় শতভাগ বৃদ্ধি পায় বলে তিনি মন্তব্য করেন। উদ্যোক্তারা এ ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নয়। কারণ শ্রমিকদের উত্পাদনশীলতা বেড়ে গেলে কারখানার মালিকরা এটাকে হুমকি বলে মনে করে।

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষক ও নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কামাল মুজেরী বলেন, পোশাক খাতের নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়লেও এখনো দুর্ভোগ কমেনি। আর অর্থনৈতিক সক্ষমতা দিয়ে নারীর বঞ্চনা দূর করা সম্ভব নয়। এই গবেষণায় এটা উঠে এসেছে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে কর্মপরিবেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, এগুলো করা হয়েছে বায়ারদের সন্তুষ্টির জন্য। শ্রমিকদের উন্নতির জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই এই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে বলে তিনি মনে করেন।  

গবেষকরা জানান, বইটিতে নির্ভরশীল ও ক্ষমতায়ন দুটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে। যার মূল লক্ষ্য ছিল একদিকে নারীর ভালনারেবিলিটি এবং অন্যদিকে নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র ফুটিয়ে তোলা। একদিকে  যেমন তারা ক্ষমতায়িত হয়েছে, অন্যদিকে তারা আবার নতুন এক ধরনের ভালনারেবিলিটির মধ্যে পড়ছে। যা এই বইটিতে বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ। গবেষকদের মধ্য থেকে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. জাহিদ উল আরেফীন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অতনু রব্বানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিনা লুত্ফা। প্রকাশনা উৎসবে সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।


মন্তব্য