kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে অগ্রাধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে অগ্রাধিকার

অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত বাংলাদেশ ইন্সপায়ার্ড প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ছবি : কালের কণ্ঠ

জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, নতুন করে যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, সেগুলোতে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত বাংলাদেশ ইন্সপায়ার্ড প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে গতকাল মঙ্গলবার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬-এর উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের তালিকায় কৃষি/খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্পকে শীর্ষে রাখা হয়েছে। এ শিল্প খাতে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকার রপ্তানির বিপরীতে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) প্রেসিডেন্ট এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেন বাপা-ইন্সপায়ার্ড প্রকল্পের উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মোসলেম আলী। এতে অন্যদের মধ্যে প্রকল্পের পরিচালক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ্র দাস, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ এম ইসলাম, বাংলাদেশ ইন্সপায়ার্ড প্রোগ্রামের টিম লিডার আলী সাবেত, বিসিকের সাবেক পরিচালক মো. আবু তাহের খান, প্রশিক্ষিত তরুণ এসএমই উদ্যোক্তা আবদুর রহমান ও প্রিয়দর্শি চাকমা বক্তব্য দেন।

আমির হোসেন আমু আরো বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কাঁচামালের সহজপ্রাপ্যতা বিবেচনা করে এলাকাভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার খালি জায়গাতে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এলাকাভিত্তিক কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জেলা পর্যায়ে স্থাপিত বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তাদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প উদ্যোক্তারা বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প খাত থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি সম্ভব। তাঁরা বলেন, বর্তমানে কৃষিভিত্তিক এ শিল্প খাত থেকে বছরে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এ শিল্প খাতে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ঘটাতে তারা স্বল্প সুদে ঋণ, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং সহজ কিস্তিতে শিল্প প্লটের মূল্য পরিশোধের সুযোগ দিতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, কৃষিভিত্তিক পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে মূল্য সংযোজনের সুযোগ অনেক বেশি। ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলো এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করছে। বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক শিল্প খাত থেকে রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। তাঁরা এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্যের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ চালুর পরামর্শ দেন। এ শিল্প খাতে দক্ষ উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে তাঁরা বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ এবং পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্যোক্তা সৃষ্টিধর্মী কোর্স চালুর তাগিদ দেন।


মন্তব্য