kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ট্রানজিটে ১৬০ ট্রাক তেল গ্যাস নেবে ভারত

আবুল কাশেম   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ট্রানজিটে ১৬০ ট্রাক তেল গ্যাস নেবে ভারত

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ১৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলপিজি) ভারতের ১৬০টি ট্রাক ও ট্রেইলার। জ্বালানিবাহী এসব যানবাহন ভারতের মেঘালয় থেকে সিলেট সীমান্তের তামাবিল-ডাউকি চেকপোস্ট দিয়ে প্রবেশের পর বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ১৪০ কিলোমিটার পথ পার হয়ে মৌলভীবাজার জেলার চাতলাপুর-কৈলাশ্বর সীমান্ত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরায় প্রবেশ করবে।

ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল খালাসের পর ট্রাক ও ট্রেইলারগুলো আবারও বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে একই পথ ব্যবহার করে ভারতে ফিরে যাবে।

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ১৬০টি ট্রাক ও ট্রেইলার তেল ও গ্যাস নিয়ে যাতায়াতের ওপর কোনো ধরনের ফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ ছাড়া ট্রানজিট পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের ওপর প্রযোজ্য শুল্ককরও মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আদেশ জারি করেছে এনবিআর।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারতের আসাম-ত্রিপুরায় বন্যা-ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার কারণে ভারত মানবিক কারণে বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। ত্রিপুরায় জ্বালানি পরিবহনের জন্য ভারতকে বিশেষ ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অনুমোদন সাপেক্ষে এনবিআর ফি ও শুল্ককর মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ’

দ্য কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯-এর ১২৯-এ ধারা অনুযায়ী, ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের ওপর কস্ট অব সার্ভিসেস (সেবা ফি) হিসেবে ফি আদায়যোগ্য। এ ছাড়া ট্রানজিট পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের ওপর শুল্ককর আরোপ রয়েছে। তবে মানবিক কারণে এনবিআর এ ক্ষেত্রে সব ধরনের ফি ও শুল্ককর মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া শুল্ক আইনের ১২৯ ধারা অনুসারে ট্রানজিট পণ্য (ট্রানজিট পণ্য পরিবহনে ব্যবহূত যানসহ) পরিবহনের ক্ষেত্রে গ্যারান্টি দাখিলের শর্ত রয়েছে। ত্রিপুরায় তেল ও গ্যাসবাহী ট্রাক ও ট্রেইলারগুলোকে এ শর্ত থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভারতের আসাম ও ত্রিপুরায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্যা ও ব্যাপক বর্ষণ হয়েছে। বন্যা ও বর্ষণে পাহাড়ে ভূমিধস হয়েছে। ফলে ভারতের আসাম থেকে ত্রিপুরাগামী সড়কপথ ব্যাপকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে ত্রিপুরার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে ত্রিপুরায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রিপুরার এ চিত্র তুলে ধরে ভারত বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মেঘালয় থেকে ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল ও এলপিজিবাহী ট্রাক ও ট্রেইলার যাতায়াতের সুযোগ চেয়েছে। বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে আলোচনার পর এনবিআর আদেশ জারি করেছে।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (শুল্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও চুক্তি) মো. জিয়াউর রহমান খান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, ‘আসাম হতে ত্রিপুরাগামী সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের আংশিক সড়কপথ ব্যবহার করে ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল ও এলপিজি পরিবহনের জন্য ভারত বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন আনুমানিক ৫০টি ট্রেইলার ট্রাক (১২-১৫ টন ওজনের) এবং ৩০টি এলপিজিবাহী ট্রাকসহ (সাত টন ওজনের) মোট আনুমানিক ১৬০টি ট্রাক বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া-আসা করবে। সিলেট সীমান্তে অবস্থিত তামাবিল-ডাউকি চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের মেঘালয় থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার মধ্য দিয়ে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার সড়কপথ অতিক্রম করে মৌলভীবাজার জেলার চাতলাপুর-কৈলাশ্বর সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে যানবাহনগুলো বাংলাদেশ হতে ত্রিপুরায় প্রবেশ করবে। ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল খালাসের পর খালি ট্রাক ও ট্রেইলারগুলো পুনরায় বাংলাদেশের একই পথ ব্যবহার করে ভারতে ফিরে যাবে। ’

গত ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা আদেশটি অর্থ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে এনবিআর বলেছে, ‘ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো সিলড অবস্থায় বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এবং সিলড অবস্থায় বাংলাদেশ হতে ফিরে যাবে। ত্রিপুরায় ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি পরিবহনের জন্য ভারতকে বিশেষ ট্রানজিট সুবিধা প্রদান করা হবে। ’

সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার যেসব শুল্ক স্টেশন বা সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে ট্রানজিট পণ্য পরিবাহিত হবে, সেসব স্টেশনকে এনবিআর ইতিমধ্যে এ তথ্য জানিয়ে দিয়ে শুল্ক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নকরণ ও ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শুল্কসংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে।


মন্তব্য