kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন প্রকাশ বৃহস্পতিবার

ফেঁসে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ফেঁসে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে রিজার্ভ চুরির ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয়জন কর্মকর্তার জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছিল মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি।

পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে আরো বেশ কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই কিভাবে রিজার্ভ চুরি হয়েছে, সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের যোগসূত্র এবং রিজার্ভ চুরির ঘটনা দীর্ঘদিন সরকারের কাছে গোপন রাখার রহস্য জানা যাবে।

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের বাইরে যাবেন তিনি। এর আগেই ২২ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

গত ৩০ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তা ‘পড়ে দেখে’ প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলেন মুহিত। তারপর বিভিন্ন সময় প্রতিবেদনটি প্রকাশের কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭০টি পেমেন্ট আদেশের মাধ্যমে হ্যাকাররা ১৯২ কোটি ৬০ লাখ এক হাজার ডলার হ্যাক করেছিল। তবে মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানের নাম না থাকায় ১৮২ কোটি ৫০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পাঁচটি আদেশে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় ১০ কোটি ১০ লাখ এক হাজার ডলার খোয়া যায়। ফাউন্ডেশন বানান ইংরেজিতে ভুল হওয়ায় খুব সহজেই শ্রীলঙ্কায় যাওয়া দুই কোটি ডলার ফেরত পাওয়া যায়। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি জানায়, গত বছর নভেম্বর মাসে সুইফটের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে আসেন নিলাভান্নান। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাগজে-কলমে তাঁকে সুইফটের ‘প্রকৃত’ প্রতিনিধি হিসেবে দেখানো হলেও ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিলাভান্নান আসলে সুইফটের ভুয়া প্রতিনিধি। তিনি এসে সুইফট সার্ভার ব্যবহারকারীদের আইডি ও পাসওয়ার্ড নকল করে নেন। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সুইফটের ভুয়া প্রতিনিধি নিলাভান্নানকে প্রধানতম অপরাধী বলে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।

অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ ম্যানেজমেন্টের বড় ধরনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সুইফটের বার্তা পাঠানোর প্রক্রিয়াকে বিবি-আরটিজিএস নেটওয়ার্কে জড়িয়ে ফেলা হয়, উড়িয়ে ফেলা হয় ব্যাক অফিসের অ্যান্টি-ভাইরাস রক্ষাকবচ। ’ দোষী কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, “রিজার্ভ চুরির ঘটনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা, উপপরিচালক মিজানুর রহমান ভুঁইয়া, জিএম আব্দুল্লাহ ছালেহীন, শেখ রিয়াজউদ্দিন ও রফিক আহমেদ মজুমদার তাঁদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি সম্পন্ন হতে সহায়তা করেছেন। এ ছাড়া গভর্নর সচিবালয় বিভাগে কর্মরত মইনুল ইসলাম এবং অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের শেখ রিয়াজউদ্দিন তাঁদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ‘কমপ্রোমাইজড’ হতে দিয়ে মহাবিপত্তির সৃষ্টি করেছিলেন। ”


মন্তব্য