kalerkantho


ক্রেতার অপেক্ষায় চামড়া ব্যবসায়ীরা

ফখরে আলম, যশোর   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ক্রেতার অপেক্ষায় চামড়া ব্যবসায়ীরা

ক্রেতা না থাকায় হতাশায় রাজারহাটের ব্যবসায়ীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের অন্যতম বৃহৎ চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাটের চিরচেনা সেই দৃশ্য পাল্টে গেছে। ব্যবসায়ীদের হইচই, আনন্দ-খুশিতে টাকা গোনার পরিবর্তে এখন তাঁদের মধ্যে চামড়া নিয়ে হতাশা আর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পুঁজি হারিয়ে অনেকে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বাড়ি ফিরছে। কোরবানির ঈদের পর গতকাল শনিবার প্রথম হাটে সরেজমিনে ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে রাজারহাটে খুলনা বিভাগ ছাড়াও ফরিদপুর, বরিশাল, পিরোজপুরসহ আরো কয়েকটি জেলার চামড়া বিক্রির জন্য তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসেন। এই হাটে কোটি কোটি  টাকার চামড়া বিক্রি হয়। কিন্তু গতকাল হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাজার হাজার চামড়া নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বসে আছেন। কিন্তু চামড়া কেনাবেচা নেই। এমনকি চামড়ার দামও কেউ বলছে না। লবণের দাম বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের হাতে নগদ টাকার অভাব আর বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম পতনের ধুয়া তুলে চামড়ার দাম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বলির পাঁঠা হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থেকে ৪০০টি গরুর চামড়া নিয়ে এসেছেন মনিরুল ইসলাম। দুপুর পর্যন্ত তাঁর চামড়ার দাম কেউ বলেনি। তিনি বলেন, ‘আমি গড়ে প্রতিটি চামড়া কিনেছি ১২০০ টাকায়। কিন্তু চামড়ার কোনো ক্রেতা নেই। এই চামড়া ফেরত নেওয়ারও কোনো পথ নেই। পরের হাটে বিক্রি করতে গেলে প্রতিটি চামড়া পাঁচ টাকা ভাড়া দিয়ে আড়তে রাখতে হবে। তাতে আমার আরো লোকসান হবে। ’ খুলনার দীঘলিয়া থেকে ১৪৯টি গরুর চামড়া নিয়ে হাটে এসেছেন জাকির হোসেন। তিনি বললেন, ‘গড়ে প্রতিটি চামড়া কিনেছি ১২৩০ টাকায়। এখন যে দাম বলা হচ্ছে তাতে আমার ৪০ হাজার টাকা লোকসান হবে। ’ যশোর সদর উপজেলার মনোহরপুর থেকে ৬৭টি চামড়া নিয়ে বিক্রির জন্য হাটে বসে আছেন উদয় কুমার। তিনি বলেন, ‘আমার গরুর চামড়া উন্নতমানের। প্রতিটি চামড়ার দাম পড়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা। এখন সর্বোচ্চ দাম উঠেছে এক হাজার ২০০ টাকা। এতে আমার লোকসান হয়ে যাবে। ’

আড়তদাররা বলছেন, ‘আমাদের হাতে টাকা নেই। গতবারের চামড়ার দাম পাইনি। কয়েকটি ট্যানারির কাছে আমাদের টাকা পাওনা রয়েছে। ’


মন্তব্য