kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের দেড় মাস পার

বেনাপোল-পেট্রাপোল সমন্বিত চেকপোস্ট এখনো চালু হয়নি

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বেনাপোল-পেট্রাপোল সমন্বিত চেকপোস্ট এখনো চালু হয়নি

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের দেড় মাস পরও বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের বেনাপোল-পেট্রাপোল ‘সমন্বিত চেকপোস্ট’ লিংক রোড দিয়ে পণ্য আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়নি পুরোপুরি। তবে এই পথে আগে থেকেই কিছু পণ্য রপ্তানি হয়ে আসছে।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত থাকলেও পেট্রাপোল বন্দর ও কাস্টম কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত না থাকায় ওই সড়ক দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে শুধু নিটল-টাটার আমদানীকৃত বাস-ট্রাকের চেসিসগুলো এই পথে আমদানি হচ্ছে।

গত ২০ জুলাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ‘সমন্বিত চেকপোস্ট’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, বেনাপোল বন্দরে অবস্থিত লিংক রোড, বাস টার্মিনালসহ আরো কয়েকটি স্থাপনাও উদ্বোধন করেন। ওপারের ‘সমন্বিত চেকপোস্ট’টির প্রধান নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন বিএসএফের দুই শতাধিক সদস্য। পণ্যবাহী এক হাজার ট্রাক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আরো গতিশীলতা আনবে বলে মনে করেন কাস্টমস কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা। ট্রাক টার্মিনাল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়্যারহাউস, এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট জোন ও স্ক্যানিং মেশিনসহ বিশ্বের আধুনিক বন্দরের সব সুযোগ-সুবিধা থাকছে এখানে।

বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। এই বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন ৪০০-৪৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। আবার ২০০ থেকে ২৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে যায়। রপ্তানি পণ্য বাইপাস সড়ক দিয়ে ভারতের টার্মিনালে গেলেও আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক ও ভারতীয় খালি ট্রাক যাতায়াত করে বেনাপোল চেকপোস্ট নো ম্যানস ল্যান্ড দিয়ে। একই পথে পর্যটকসহ যাত্রীরা দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকে। এতে করে বন্দরে পণ্যজট লেগেই থাকে।

এই সমস্যা সমাধানে সরকার বেনাপোল বন্দরে বাইপাস (লিংক রোড) সড়ক নির্মাণ করে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সড়কটি দিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রপ্তানিবাহী ট্রাক যাতায়াত করছে। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের জনবল সংকটের কারণে ও বিশেষ একটি মহলের বাধার কারণে পেট্রাপোল সমন্বিত চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকছে না। যে কারণে চেকপোস্ট থেকে বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত প্রতিদিন থাকছে দীর্ঘ যানজট।

বিভিন্ন যানবাহন, যাত্রীসহ এলাকার সাধারণ মানুষকে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অনেককে হেঁটে যেতে দেখা যায় চেকপোস্টে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, ওপারের ট্রাক টার্মিনালে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে বাংলাদেশগামী আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা আদায় করে থাকে। মূলত তাদের বাধার কারণে লিংক রোড দিয়ে আমদানি এখনো চালু করা যাচ্ছে না। তারা নানা অজুহাতে ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে আসছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, পণ্যজট কমাতে ও আমদানি-রপ্তানি পণ্য ওঠানামা সহজ করার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে বেনাপোল বন্দরের পাঁচ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ করার জন্য উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এক কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে বেশ আগেই তাদের অংশের আড়াই কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করে। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাইপাস সড়কের কাজ শেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) নিতাই চন্দ্র সেন বলেন, ‘আমাদের এখানে ৩৮টি শেডসহ ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে। যাতে আমদানি করা ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য রাখা যায়। ভারতের নতুন লিংক রোড দিয়ে আমদানি পণ্য এলে তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু ভারতের কাস্টম এখনো প্রস্তুত না থাকায় আমদানি পণ্য আসছে না। তবে রপ্তানি পণ্য কিছু যাচ্ছে সড়কটি দিয়ে। ’

নিতাই চন্দ্র সেন আরো বলেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। অচিরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বাইপাস সড়ক দিয়ে সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করলে বন্দরে যানজট থাকবে না। ’

ওপারের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস সূত্রে জানা গেছে, ভারতের সমন্বিত চেকপোস্টে কাস্টম অফিসগুলো এখনো নতুন ভবনে সরিয়ে নিতে পারেনি তারা। তাই আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়নি। অফিস সরিয়ে নিলেই শুরু হবে আমদানি-রপ্তানি।

ভারত-বাংলাদেশ স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি সাবকমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা কাস্টম ও প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে ওপারে গিয়েছিলাম। তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন আমাদের দেশে এক হাজার পণ্যবাহী গাড়ি লিংক রোড দিয়ে পাঠাবেন। কিন্তু সক্ষমতা না থাকায় বেনাপোল পোর্ট কর্তৃপক্ষ তা নিতে রাজি হয়নি। লিংক রোডটি চালু হলে আমাদের অনেক হয়রানি কমে যাবে। তা ছাড়া দ্রুততম সময়ে আমদানীকৃত গাড়ি বেনাপোল বন্দরে আসতে পারবে। ’

পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পরিদর্শন : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শন করলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী। গত শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্তে পৌঁছান। এরপর তিনি বেনাপোল সীমান্ত বন্দর ঘুরে দেখেন।

দুই সীমান্ত পরিদর্শন করে সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক অনেক নিবিড়। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও আগের চেয়ে অনেক গতিশীল হয়েছে। পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলসীমান্ত বন্দর পর্যটকবান্ধব এবং বাণিজ্যবান্ধব করার জন্য দুই সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।


মন্তব্য