kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অর্থনীতির গতি ফেরাতে ভূমিকা রাখতে হবে জি-২০ দেশগুলোকে

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অর্থনীতির গতি ফেরাতে ভূমিকা রাখতে হবে জি-২০ দেশগুলোকে

সম্প্রতি শেষ হওয়া জি-২০ দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে। তাঁদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা চলছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে অর্থনৈতিক দেশগুলোকে সুসংহত ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে মনোযোগ দিতে হবে।

আর এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে উন্নত ও উদীয়মান দেশগুলোকে। কারণ ২০০৯ সালে যে অর্থনৈতিক সংকট হয়েছিল তখন উন্নত দেশগুলো প্রবৃদ্ধি ঝুঁকিতে থাকায় বিশ্ব অর্থনীতির হাল ধরেছিল উদীয়মান দেশগুলোই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কারণেই বিশ্ব অর্থনীতির গতি ফেরাতে জি-২০ দেশগুলোর ঐকমত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সংস্থায় উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলো থেকে শুরু করে উন্নত দেশগুলোর সম্মিলন ঘটেছে। ব্রিকস খ্যাত বর্তমান বিশ্বের উদীয়মান পাঁচ শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশ এ সংস্থার অন্তর্ভুক্ত। শুধু তাই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির ৮৫ শতাংশই আসে এ দেশগুলো থেকে। সেই সঙ্গে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ জনগণ বাস করে এ অঞ্চলে। ফলে অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে জি-২০ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থা।

জি-২০ভুক্ত দেশগুলো হচ্ছে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ম্যাক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ দেশগুলোকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যাংঝুতে শেষ হওয়া দুই দিনের জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মুক্ত বাণিজ্য নীতির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্মেলন শেষে জি-২০ দেশগুলো একমত হয়েছে, মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি এবং কাঠামোগত সংস্কারসহ সব নীতি সুসংহত ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যবহার করা হবে। বলা হয়, সুসংহত ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশেষভাবে এ তিনটি নীতি ব্যবহারের ব্যাপারে নীতিনির্ধারকরা একমত হয়েছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে নিম্নমুখী ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এ ঝুঁকি প্রতিরোধে আমাদের সুসংহত ও টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। জি-২০ দেশগুলো মনে করে প্রবৃদ্ধির দুই গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সেই সঙ্গে একটি উন্মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তোলা। ’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে জি-২০ দেশগুলো যদি অগ্রণী ভূমিকা রাখে তবে বিশ্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটবে এবং অর্থবাজারে স্থিতিশীলতাও ফিরে আসবে। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য