kalerkantho


ঋণপ্রবাহ বেড়েছে বেসরকারি খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঋণপ্রবাহ বেড়েছে বেসরকারি খাতে

বিনিয়োগ পরিবেশ ফিরে এসেছে দাবি সংশ্লিষ্টদের

দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে তেমন গতি ছিল না। তবে গত কয়েক মাস ধরে এ খাতের ঋণে গতি দেখা যাচ্ছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা অনেক টাকা ঋণ নিচ্ছে ব্যাংকগুলো থেকে। তবে এ ঋণ কতটা উত্পাদনশীল খাতে যাচ্ছে বা শিল্পোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক বিশ্লেষক। তবুও ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ফিরে আসায় এ খাতের ঋণে গতি এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। যেখানে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের জুনের তুলনায় জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি ০.৮৫ শতাংশ কমেছে।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি ও বেসরকারি মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খান বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় ব্যবসায়ীরা ব্যবসার পরিবেশ পেয়েছে। যেসব ব্যবসায়ী ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছিল তারা ফিরে আসছে। পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্যোক্তারা তো আসছেই। মোট কথা বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হওয়ার ফলে বেসরকারি খাতের ঋণে একটা চাহিদা তৈরি হয়েছে। সে কারণে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে।  

আনিস এ খান আরো বলেন, ঠিক কোন কোন খাতে ঋণ বেশি যাচ্ছে এটা আসলে খাতভিত্তিক তথ্য না দেখে বলা যাবে না।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এ কথা ঠিক। তবে নতুন নতুন শিল্পায়নের দিক থেকে আমরা এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছি। এখানে তেমন একটা বিনিয়োগ হচ্ছে না। এটাকে যদি আমরা আরো ভেঙে বলি তাহলে বলা যাবে উত্পাদনমুখী খাতে তেমন একটা বিনিয়োগ এখনো চোখে পড়ছে না। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এখন ঋণের সুদহার বেশ কমে গেছে। যাদের সঙ্গে ব্যাংকের সম্পর্ক ভালো তারা আরো কমে ঋণ নিতে পারছে। আর বিনিয়োগের একটা পরিবেশও তৈরি হয়েছে। তবে ঋণ বিতরণ যতটুকু হচ্ছে তার বেশির ভাগই পুরনো গ্রাহকদের কাছেই যাচ্ছে। নতুন শিল্পোদ্যোক্তা এসে ভিড় করছে বিষয়টা এমন নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ৯.৬৫ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঋণে গড় সুদহার ৯ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ১০.৬৬ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৮.৫২ শতাংশ।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেসরকারি খাতের ঋণে বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও সেটা যদি উত্পাদনশীল খাতে না যায় তবে তা জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে খুব একটা অবদান রাখবে না। কারণ নতুন নতুন শিল্প তৈরি না হলে অর্থনীতিতে গতিশীলতা বাড়বে না।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিকে আরো চাঙ্গা করতে এই মুহূর্তে শিল্পে নতুন নতুন বিনিয়োগ জরুরি। বিশেষ করে উত্পাদনমুখী শিল্পে। পুরনো জায়গায় ঋণের বিতরণ ঘুরপাক খেতে থাকলে আমাদের এত ভালো প্রবৃদ্ধি দিয়ে কিছুই হবে না।   এর জন্য অবশ্য ব্যাংকগুলোর বিশেষভাবে ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে তদারকি বাড়ানো উচিত। ’


মন্তব্য