kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খসড়া কাঠামোর গেজেট জারি

হোটেল শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০০০ টাকা

আবুল কাশেম   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হোটেল শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০০০ টাকা

হোটেল ও রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর খসড়া সুপারিশ ঘোষণা করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন নিম্নতম মজুরি বোর্ড। তাতে বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় চতুর্থ গ্রেডের একজন অদক্ষ শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার টাকা।

এর সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতা এক হাজার ৫০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৪০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৫০০ টাকাসহ তিনি মাসে পাঁচ হাজার ৪০০ টাকা পাবেন।  

সম্প্রতি মজুরি বোর্ডের জারি করা এক গেজেটে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, জেলা শহর এলাকায় চতুর্থ গ্রেডের একজন অদক্ষ শ্রমিকের মজুরি হবে দুই হাজার ৪০০ টাকা। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও যাতায়াত ভাতাসহ মোট চার হাজার ২৮০ টাকা পাবেন শ্রমিক। আর থানা সদর ও অন্যান্য এলাকায় হোটেল ও রেস্টুরেন্টে কর্মরত অদক্ষ শ্রমিক ন্যূনতম মূল মজুরি দুই হাজার ১৫০ টাকার সঙ্গে অন্যান্য ভাতাসহ মোট তিন হাজার ৭১০ টাকা পাবেন। সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহর পর্যায়ে সব স্তরের শ্রমিকের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং জেলা শহরে ৪৫ শতাংশ ও থানা পর্যায়ে বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৪৯ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেড ও স্থানভেদে সব শ্রমিকের জন্য মাসিক চিকিৎসাভাতা ৪০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।  

চতুর্থ গ্রেডের অদক্ষ শ্রমিক বলতে পার্সেল বয়, ডিস ওয়াশ বয়, গ্লাস বয়, টেবিল বয়, ক্লিনার, ঝাড়ুদার, কারিগর বয়, সহকারী ওয়েটার ও অন্য সাহায্যকারীদের বুঝাবে। তবে এই গ্রেড পাওয়ার আগে তিন মাস শিক্ষানবিশকাল পার করতে হবে শ্রমিকদের। শিক্ষানবিশকালে তাদের সাকুল্য মজুরি হবে তিন হাজার ২০০ টাকা।

গত ৩০ মার্চ শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি কাঠামো প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে এ জন্য একটি বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ মো. আলী হায়দার। হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য হিসেবে রয়েছেন কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ ও মো. রুহুল আমিন। শ্রমিকপক্ষের সদস্য ফজলুল হক মন্টু ও মো. আহসান হাবীব মোল্লা। বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন হোটেল-রেস্টুরেন্ট বাবুর্চি সহকারী, সহকারী নাশতা কারিগর, সহকারী রুটি কারিগর, সহকারী কাবাব কারিগর, সহকারী গ্রিল কাবাব কারিগর, সহকারী ফালুদা/লাচ্ছি কারিগর, সহকারী কারিগর (মিষ্টি), সহকারী দই কারিগর, সহকারী সরমা কাবাব কারিগর, সহকারী চা, কফি, হ্যান্ডি কারিগর, ওয়েটার ও মেট গ্রেড ৩-এ অন্তর্ভুক্ত। তাদের আধাদক্ষ শ্রমিক হিসেবে চিহ্নিত করে গেজেটে বলা হয়েছে, বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় ন্যূনতম মজুরি হবে তিন হাজার ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে এক হাজার ৮০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা, ৪০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও ৫০০ টাকা যাতায়াত ভাতাসহ তিনি মাসে মোট ছয় হাজার ৩০০ টাকা পাবেন। জেলা শহরে এই শ্রমিকদের মূল মজুরি তিন হাজার টাকার সঙ্গে অন্যান্য ভাতা যোগ করে পাঁচ হাজার ১৫০ টাকা ও থানা এলাকায় দুই হাজার ৪০০ টাকা মূল মজুরির সঙ্গে অন্যান্য ভাতা যোগ করে চার হাজার ৬০ টাকা।

হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের মধ্যে গ্রেড ২-এর অন্তর্ভুক্ত শ্রমিকদের দক্ষ শ্রমিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই শ্রেণির শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছে মিষ্টি স্পেশাল কারিগর, নাশতা কারিগর, রুটি কারিগর, কাবাব কারিগর, গ্রিল কাবাব কারিগর, ফালুদা/লাচ্ছি কারিগর, দই কারিগর, চটপটি কারিগর, সরমা কাবাব কারিগর এবং চা, কফি বা হ্যান্ডি কারিগর। বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে তাদের সর্বনিম্ন মূল মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় হাজার টাকা। এর সঙ্গে তিন হাজার টাকা বাড়িভাড়া ভাতা, ৪০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও ৫০০ টাকা যাতায়াত ভাতা যোগ করলে তার মোট মজুরি দাঁড়াবে ৯ হাজার ৯০০ টাকা। জেলা শহর এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্টে এ ধরনের শ্রমিকদের মূল মজুরি চার হাজার ৮০০ টাকা। ভাতাসহ তার মোট মজুরি হবে সাত হাজার ৭৬০ টাকা। আর থানা পর্যায়ে তিন হাজার ৬০০ টাকা মূল মজুরিসহ মোট মজুরি দাঁড়াবে পাঁচ হাজার ৭৪০ টাকা।

গেজেট অনুযায়ী প্রধান পাচক (বাবুর্চি), বাবুর্চি (বাংলা) ও বাবুর্চি (চায়নিজ) গ্রেড ১-এর আওতাভুক্ত। বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্টে তাদের সর্বনিম্ন মূল মজুরি ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ছয় হাজার টাকা বাড়িভাড়া ভাতা, ৪০০ টাকা চিকিৎসা ও ৫০০ টাকা যাতায়াত ভাতাসহ তাদের মোট মজুরির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮ হাজার ৯০০ টাকা। এ ধরনের বাবুর্চি সাধারণত জেলা শহর ও থানা এলাকায় থাকে না বলে এ দুটি ক্ষেত্রে তাদের মজুরি নির্ধারণ করা হয়নি।

এ ছাড়া হোটেল-রেস্টুরেন্টের সিনিয়র হিসাব সহকারী, সিনিয়র স্টোর কিপার, সিনিয়র টাইপিস্ট বা সিনিয়র কম্পিউটার অপারেটর, সিনিয়র ক্লার্ক ও সিনিয়র ক্যাশিয়ারদের বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় ছয় হাজার টাকা মূল মজুরিসহ মোট মজুরি ৯ হাজার ৯০০ টাকা। জেলা শহরে এটি চার হাজার ৮০০ টাকা মূল মজুরিসহ সাত হাজার ৭৬০ টাকা এবং থানা পর্যায়ে চার হাজার ৪০০ টাকা মূল মজুরিসহ মোট মজুরি ছয় হাজার ৮৬০ টাকা।

হোটেল-রেস্টুরেন্টে কর্মরত হিসাব সহকারী, সহকারী স্টোর কিপার, সহকারী টাইপিস্ট বা সহকারী কম্পিউটার অপারেটর, সহকারী ক্যাশিয়ার, টেলিফোন অপারেটর ও ড্রাইভারের বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় মূল মজুরি চার হাজার ৪০০ টাকা। এর সঙ্গে অন্যান্য ভাতা যোগ করলে মোট মজুরি দাঁড়াবে সাত হাজার ৫০০ টাকা। জেলা শহরে এই পদধারীদের মূল মজুরি চার হাজার টাকাসহ মোট মজুরি ছয় হাজার ৬০০ টাকা এবং থানা পর্যায়ে তিন হাজার ৬০০ টাকা মূল মজুরিসহ মোট মজুরি হবে পাঁচ হাজার ৭৪০ টাকা।

বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশনভুক্ত হোটেল ও রেস্টুরেন্টের দারোয়ান, চৌকিদার, পিয়ন, নাইটগার্ড, সুইপার, মালি, গাড়িচালকের হেলপারের মূল মজুরি তিন হাজার টাকা। এর সঙ্গে অন্যান্য ভাতা যোগ হলে মোট মজুরি দাঁড়াবে পাঁচ হাজার ৪০০ টাকা। জেলা পর্যায়ে দুই হাজার ৪০০ টাকা মূল মজুরিসহ চার হাজার ২৮০ টাকা এবং থানা পর্যায়ে দুই হাজার ১৫০ টাকা মূল মজুরিসহ মোট মজুরি দাঁড়াবে তিন হাজার ৭১০ টাকা।


মন্তব্য