kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চোরাপথে গরু এলে লোকসানে পড়বে খামারিরা

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যশোরের ঘরে ঘরে কোরবানির জন্য গরু রিষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, জেলায় কোরবানির জন্য প্রয়োজন ২৮ হাজার ২০০ গরু।

কিন্তু রিষ্টপুষ্ট করা হয়েছে ৩৪ হাজার ১৭৯টি। প্রতিটি গরুর দাম ৪০ হাজার টাকা ধরা হলে রিষ্টপুষ্ট করা মোট গরুর মূল্য ১৫৬ কোটি টাকা। কোরবানি দিয়েও ওই সংখ্যক গরুর মধ্যে ছয় হাজারের বেশি গরু উদ্বৃত্ত থাকবে। এসব গরু নিয়ে খামারিরা স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু হঠাৎ করে ভারত থেকে চোরাইপথে গরু আসার কারণে খামারিরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এই গরু আসা অব্যাহত থাকলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এবার সাত হাজার ১২৫ জন খামারি কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রযুক্তির মাধ্যমে লালন-পালন করছে। ভাতুড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, ‘গরুর দাম সন্তোষজনক। কিন্তু ভারত থেকে গরু এলে আমাদের গরুর দাম কমে যাবে। ’ যশোরের বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, দুই থেকে পাঁচ মণ ওজনের দেশি গরু উঠেছে। এর মধ্যে ‘টাইট’ গরুর চাহিদা ও দাম বেশি।

গরু ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অনেকে গরু কিনে ঢাকার গাবতলী নিয়ে যাচ্ছে। দাম গত বছরের মতো। কিন্তু গত শনিবার থেকে বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে গরু আসা শুরু হয়েছে। এতে দেশি গরুর বাজার পড়ে যাবে। খামারিদের লোকসান হবে। ’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবোতোষ কান্তি সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষ এখন আগের চেয়ে সচেতন হয়েছে। আমরা খামারিদের সচেতন করেছি। নিষিদ্ধ ঘোষিত স্টেরয়েড, অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন, যা মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর তা যেন প্রয়োগ করা না হয় এ জন্য আমরা গ্রামে গ্রামে কাজ করেছি। এমন নিষিদ্ধ ওষুধের মাধ্যমে মোটাতাজা করা গরু হাটে যেন বিক্রি করতে না পারে এ জন্য জেলার ২৪টি হাটে চিকিৎসকদল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। ’


মন্তব্য