kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাজেরোর ‘কিউএক্স’ মডেল আনছে প্রগতি

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পাজেরোর ‘কিউএক্স’ মডেল আনছে প্রগতি

পুরনো পাজেরো ভি-৩১ মডেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাজেরো স্পোর্ট সিআর-৪৫ মডেলটি ২০১০ সাল থেকেই সংযোজন করে আসছিল প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (পিআইএল)। তবে এবার পাজেরোর এই মডেলটিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

কারণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাপানের বিখ্যাত মিত্সুবিশি মোটরস করপোরেশন গত আগস্ট মাস থেকেই পাজেরো স্পোর্ট সিআর-৪৫ মডেলের গাড়ি নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। ফলে পাজেরো স্পোর্টের নতুন ‘কিউএক্স’ মডেল জিপ আনতে যাচ্ছে প্রগতি।

আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদিত হবে। তবে মিত্সুবিশির বহরে সিআর-৪৫ মডেলটির উত্পাদন বন্ধ হওয়ার আগেই এই মডেলের প্রায় ৫০০টি বিযুক্ত (সিকেডি) গাড়ির জন্য এলসি খুলছে প্রগতি কর্তৃপক্ষ। যাতে নতুন গাড়ি সংযোজনের মধ্যবর্তী সময়ে গাড়ি সংযোজনে কোনো সংকট তৈরি না হয়।

পিআইএল সূত্র জানায়, পাজেরো স্পোর্ট সিআর-৪৫ মডেলটির জন্য ২০১০ সালে মিত্সুবিশি মোটরসের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হয় প্রগতির। পরে এই চুক্তি আরো দুই বছর বাড়ানো হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রগতি ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত এই মডেলের গাড়িটি বাজারজাত করতে পারবে। এরপরেই নতুন মডেলের গাড়ি সংযোজন করতে হবে প্রগতিকে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই ২৫০০ সিসির অত্যাধুনিক ‘কিউএক্স’ মডেলের পাজেরো স্পোর্ট গাড়ি সংযোজনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে চুক্তির একটি ড্রাফট মিত্সুবিশির কাছে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই চুক্তি সম্পাদিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পিআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবুল খায়ের সরদার।

বর্তমানে পাজেরো সিআর-৪৫ মডেলের জিপ সরকারি পর্যায়ে ৬৮ লাখ থেকে ৭০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরো আধুনিক নতুন কিউএক্স মডেলের গাড়িটি সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে প্রগতি। দামে ৮০ লাখ টাকা হলেও দেশের বাজারে দেড় কোটি থেকে দুই কোটি টাকা দামি জিপের মতোই দেখতে নতুন এই গাড়ি। তাই সরকারি পর্যায়ে বিক্রি ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্প এবং বেসরকারি পর্যায়ে এই জিপটি বাজারজাত করার ইচ্ছা আছে বলে জানালেন পিআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আগামী বছরেই নতুন মডেলের জিপটি সংযোজন এবং এই গাড়িটি জনপ্রিয় করার মধ্যবর্তী সময়ে যাতে গাড়ি বিক্রি নিয়ে সংকটে পড়তে না হয় সে জন্য ইতিমধ্যে সিআর-৪৫ মডেলের প্রায় ৫০০টি সিকেডি গাড়ির জন্য এলসি খুলে রেখেছে প্রগতি। এ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী আবুল খায়ের সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিত্সুবিশি সিআর-৪৫ মডেলটির উত্পাদন বন্ধ করে দেওয়ার আগে থেকেই এই মডেলের কিছু গাড়ি অগ্রিম কিনে রাখছি। কারণ এই মডেলটি ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভি-৩১ বন্ধ হওয়ার আগেও আমরা একই পলিসি নিয়েছিলাম। তাতে চলতি অর্থবছর নিয়ে আমাদের তেমন চিন্তা করতে হবে না। ’

নতুন মডেলের জিপ প্রসঙ্গে আবুল খায়ের সরদার আরো বলেন, ‘মিত্সুবিশি কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের একেবারে লেটেস্ট মডেলের জিপ গাড়িটিই আমাদের দেবে বলে জানিয়েছে। দেশের বাজারে সর্বাধুনিক গাড়িটি সরকারি পর্যায়ে ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়েও জনপ্রিয় হবে বলে আশা করছি। ’

জানা গেছে, এ বছরেই দুই মাসের ব্যবধানে ভারতের মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা কম্পানির স্করপিও জিপ এবং চীনের ফোডে (ঋড়ফধু) অটোমোবাইল কো. লিমিটেডের তৈরি ‘ল্যান্ডফোর্ট এসইউভি’ জিপ সংযোজন শুরু করেছে প্রগতির কারখানায়।


মন্তব্য