kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পোশাক শ্রমিকদের তথ্য ব্যাংক তৈরির কাজে গতি ফিরেছে

এম সায়েম টিপু   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পোশাক শ্রমিকদের তথ্য ব্যাংক তৈরির কাজে গতি ফিরেছে

তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য এমন কারখানাগুলোর বেশির ভাগ আগামী নভেম্বরের মধ্যে তথ্য ব্যাংকের আওতায় আসছে বলে জানা গেছে। আর এ লক্ষ্যেই কাজ করছে সংগঠনটি।

এর ফলে পোশাক খাতের প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক তথ্য ব্যাংকের আওতায় আসবে। আর সেই লক্ষ্যে কাজ করছে বিজিএমইএ।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রায় দুই হাজার কারখানা তথ্যভাণ্ডারের জন্য নিবন্ধন করেছে। সেই সঙ্গে আট শতাধিক কারখানার সাত লাখের অধিক শ্রমিক ইতিমধ্যে তথ্যভাণ্ডারের আওতায় এসেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে চালু রয়েছে এমন সদস্য কারখানাগুলোকে এবং সেসব কারখানার সব শ্রমিককে এর আওতায় আনতে কাজ চলছে জোরেশোরে।

২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজ। তখন থেকে এ পর্যন্ত অসংখ্যবার সময় বাড়ানো হয়। তাগাদা দেওয়া হলেও ২০১৩ সাল থেকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন বছরে তালিকাভুক্ত হয়েছিল মাত্র ৩৭৬ গার্মেন্ট কারখানা। এরপর বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বিষয়টিতে অধিক গুরুত্ব দিলে এবং গার্মেন্ট মালিকদের প্রতি হুঁশিয়ারি দেন, তথ্যভাণ্ডারের জন্য কারখানার নাম তালিকাভুক্ত না করলে ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) বাতিল করাসহ অন্যান্য সার্ভিস বাধাগ্রস্ত করা হবে। এই হুঁশিয়ারির পর গার্মেন্ট মালিকরা একটু নড়েচড়ে বসে। এরপর প্রতি মাসেই তথ্যভাণ্ডারে নিবন্ধনের তালিকা বাড়তে থাকে। সর্বশেষ বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

বিজিএমইএতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত মোট এক হাজার ৯৪৯টি গার্মেন্ট কারখানা তথ্যভাণ্ডারে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে ঢাকায় রয়েছে এক হাজার ৬৮৪টি এবং চট্টগ্রামে ২৭২টি। সেই সঙ্গে এখন পর্যন্ত ৮৩৫টি কারখানার মোট সাত লাখ শ্রমিক নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত মোট গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে চার হাজার ৩০০টির মতো। এর মধ্যে চালু রয়েছে তিন হাজার ২০০টির মতো। আর ইউডি নিচ্ছে দুই হাজার ২০০টির মতো কারখানা। সুতরাং গত ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রায় দুই হাজার কারখানা নিবন্ধনের আওতায় আসাকে বড় সফলতা মনে করছেন বিজিএমইএ নেতারা।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তথ্যভাণ্ডারে নিবন্ধনের যে অগ্রগতি তাতে আমরা সন্তুষ্ট। বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ তথ্যভাণ্ডারের বিষয়টির ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ায় গত ছয়-সাত মাসে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যারা নিবন্ধনের আওতায় আসেনি তাদের ইউডি সেবাসহ অন্যান্য সেবা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। সুতরাং ব্যবসা করতে হলে তথ্যভাণ্ডারের আওতায় আসতেই হবে। তবে বিজিএমইএ এ কাজের অনেক অগ্রগতি করলেও বিকেএমইএর কাজের গতি কতটা হলো সেটা আমাদের জানা নেই। সেই সঙ্গে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত নয় এমন অনেক কারখানা রয়েছে। তারা তথ্যভাণ্ডারের আওতায় না এলে সেই দায় আমরা নেব না। ’

বায়োমেট্রিক ওয়ার্কার ডাটাবেইসের মাধ্যমে সুবিধা মিলবে, যেমন—কোনো কারণে বিজিএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের তথ্য নষ্ট হলে তা সার্ভার থেকে আবার সংগ্রহ করা যাবে। শ্রমিকের সারা জীবনের চাকরির তথ্য ডাটাবেইসে সংরক্ষিত থাকবে। প্রত্যেক শ্রমিকের একটি ইউনিক আইডি তৈরি হবে, যার মাধ্যমে শ্রমিকদের আইডি কার্ড প্রিন্ট করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া এই ডাটাবেইসের মাধ্যমে প্রকৃত গার্মেন্ট শ্রমিকদের সহজেই শনাক্ত করা যাবে। গার্মেন্ট শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হওয়াসহ মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য বিজিএমইএ সিসটেক ডিজিটাল লিমিটেড ও টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। তাদের তত্ত্বাবধানেই কাজ চলছে তথ্যভাণ্ডারের।


মন্তব্য