kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেড়েছে ৭৭ শতাংশ

শেখ শাফায়াত হোসেন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেড়েছে ৭৭ শতাংশ

ব্যাংকের সুদের হার ক্রমাগত কমতে থাকায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে ঝুঁকে পড়ছে মানুষ। অনেকে ব্যাংক থেকে আমানত তুলে এনে সঞ্চয়পত্র কিনছে।

মানুষের বিনিয়োগের আরেক ক্ষেত্র পুঁজিবাজারের ওপর তাদের আস্থা কমে যাওয়ায় জমানো টাকার মুনাফার ওপর নির্ভরশীলরা সঞ্চয়পত্রকেই ভরসা হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

এক-দেড় বছরের ব্যবধানে ব্যাংকে আমানতের সুদের হার প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। গত অর্থবছর সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও কিছুটা কমিয়েছে। তা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ব্যাংকের মেয়াদি আমানতের সুদহারের প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। ফলে চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রথম (জুলাই) মাসেই সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ হয়েছে তিন হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। এর আগে কোনো মাসেই সঞ্চয়পত্রে এত বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ হয়নি। গত অর্থবছরের জুলাই মাসে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে ৭৭.০১ শতাংশ।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা যে সুদ পায়, তাকে সঞ্চয় পরিদপ্তর সুদের হার না বলে ‘মুনাফার হার’ বলে থাকে। একজন বিনিয়োগকারী যে অর্থে সঞ্চয়পত্র কেনে, ওই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারের ঋণে পরিণত হয়। ফলে বিনিয়োগকারী যে মুনাফা বা সুদ পায়, তা সরকারকে পরিশোধ করতে হয়। সরকারের অর্থের অভাব না থাকলেও মানুষ যত বেশি সঞ্চয়পত্র কিনবে, সরকারের ঋণ তত বেশি বাড়বে। তাই সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে মানুষকে অধিকমাত্রায় সঞ্চয়পত্র কেনা থেকে বিরত রাখার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। সুদের হার পর্যালোচনা করে তা কমানোর জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল বা জিপিএফ ও প্রদেয় ভবিষ্য তহবিলের (সিপিএফ) ইনক্রিমেন্টের ওপর সুদের হার ইতিমধ্যে ১৩.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমাতে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো মনে করে, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার অনেক বেশি হওয়ায় মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা আমানত করার বদলে সঞ্চয়পত্র কিনছে। আর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমে গেলে মানুষ তাদের জমানো টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবে। তাতে পুঁজিবাজার চাঙ্গা হবে। বর্তমানে ব্যাংক ভেদে আমানতের সুদের হার ৬ থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেশি মুনাফা পাওয়া যায় পেনশনার সঞ্চয়পত্রে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে ১১.৭৬ শতাংশ মুনাফা। পরিবার সঞ্চয়পত্রে যা ১১.৫২ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ১১.২৮ শতাংশ। অন্যদিকে একই মেয়াদের তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ১১.৪ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তাতে প্রতি মাসে গড়ে এক হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হলেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। সেখানে এক মাসেই তিন হাজার ৪৯৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই হারে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়তে থাকলে এ খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ পরিমাণ ছাড়িয়ে যাবে। তাতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ সুদ গুনতে হবে, যা ভবিষ্যতে বাজেট ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।  

গত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের পুরো সময় সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছিল ৩৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে ব্যাংকবহির্ভূত উেসর মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা।


মন্তব্য